ঘাস খেয়েই ‘বেতন’! পোল্যান্ডে ১০০ ভেড়াকে কাজে লাগাল ফোক্‌সভাগেন, জানুন কেন

ঘাস খেয়েই ‘বেতন’! গাড়ি নির্মাতা সংস্থার কর্মী হিসেবে ভেড়া! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জার্মান অটোমোবাইল সংস্থা ফোক্‌সভাগেন। পোল্যান্ডের পোজ়নানে তাদের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১০০টি ভেড়াকে কাজে লাগানো হয়েছে।…

July 11, 2026
1 min read

ঘাস খেয়েই ‘বেতন’!

গাড়ি নির্মাতা সংস্থার কর্মী হিসেবে ভেড়া! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জার্মান অটোমোবাইল সংস্থা ফোক্‌সভাগেন। পোল্যান্ডের পোজ়নানে তাদের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১০০টি ভেড়াকে কাজে লাগানো হয়েছে। তবে এই ‘চাকরির’ জন্য তাদের মাসিক বেতন নয়, মিলছে পুষ্টিকর সবুজ ঘাস।

এই উদ্যোগটি ‘অ্যাগ্রিভোল্টাইকস’ ধারণার অংশ, যেখানে একই জমি কৃষিকাজ এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। ফোক্‌সভাগেনের লক্ষ্য, পরিবেশবান্ধব উপায়ে সৌর প্যানেলের নীচের ঘাস পরিষ্কার রাখা এবং একই সঙ্গে টেকসই কৃষি ও নবায়নযোগ্য শক্তির সমন্বয় কতটা কার্যকর হতে পারে, তা পরীক্ষা করা।

পোজ়নানের উৎপাদন কারখানায় ৩১ হাজারেরও বেশি সৌর প্যানেল রয়েছে। এত বড় এলাকায় নিয়মিত ঘাস কাটতে সাধারণত যান্ত্রিক লন-মোয়ার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেই পদ্ধতিতে জ্বালানি খরচ, কার্বন নিঃসরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বেশি। তাই এবার সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১০০টি ভেড়ার একটি পালকে। তারা নিয়মিত ঘাস খেয়ে সৌর প্যানেলের চারপাশ পরিষ্কার রাখবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে পোজ়নান ইউনিভার্সিটি অব লাইফ সায়েন্সেস-এর সহযোগিতায়। গবেষকেরা পর্যবেক্ষণ করছেন, ভেড়া চরানোর ফলে মাটির গুণমান, জীববৈচিত্র্য, উদ্ভিদের বৃদ্ধি, স্থানীয় পরিবেশ এবং প্রাণীদের সুস্থতার উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে অ্যাগ্রিভোল্টাইকস দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতদিন এই ধরনের প্রকল্পে সৌর প্যানেলের নীচে বিভিন্ন ফসল চাষের ওপর বেশি জোর দেওয়া হলেও, ফোক্‌সভাগেনের উদ্যোগে গবাদি পশুকে যুক্ত করে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করা হয়েছে।

পোজ়নানের ১৮.৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে বার্লিনের কোয়ান্টা এনার্জি। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কারখানার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বছরে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ২৫ শতাংশও আসে এই কেন্দ্র থেকেই।

ফোক্‌সভাগেন পোজ়নানের ডিরেক্টর মারজেনা পিলিচ-গ্রনস্কা জানান, এই প্রকল্প শুধু পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি স্থানীয় কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর মতে, আধুনিক শিল্প এবং প্রকৃতি একসঙ্গে চলতে পারে— এই উদ্যোগ তারই বাস্তব উদাহরণ।

জানা গিয়েছে, অভিজ্ঞ পালকদের তত্ত্বাবধানে শরৎকাল পর্যন্ত ভেড়াগুলি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই থাকবে। এতে যান্ত্রিক ঘাস কাটার প্রয়োজন কমবে, রক্ষণাবেক্ষণের খরচও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমার পাশাপাশি কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে বলেও আশা করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

অভিনব এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই পরিবেশ রক্ষায় ফোক্‌সভাগেনের এই প্রকৃতি-নির্ভর সমাধানকে ভবিষ্যতের টেকসই শিল্পচর্চার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলে মনে করছেন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *