গোলাপি জার্সিতে খেলেও হলুদে মন!
দল বদল হয়েছে, জার্সির রং বদলেছে—কিন্তু মন কি এত সহজে বদলায়? সেই প্রশ্নের উত্তর যেন নিজের আচরণেই দিয়ে দিলেন রবীন্দ্র জাডেজা। রাজস্থান রয়্যালস-এ যোগ দেওয়ার পরেও তাঁর হৃদয়ে যে এখনও বিশেষ জায়গা দখল করে আছে চেন্নাই সুপার কিংস—তা স্পষ্ট হয়ে গেল এক আবেগঘন মুহূর্তে।
সোমবার গুয়াহাটি-তে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ম্যাচে শুরু থেকেই প্রাধান্য দেখায় রাজস্থান। প্রথমে ব্যাট করে চেন্নাই ১৯.৪ ওভারে মাত্র ১২৭ রানে গুটিয়ে যায়। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে রাজস্থান।
কিন্তু ম্যাচের স্কোরলাইন নয়, সবার নজর কেড়ে নেয় খেলা শেষে ঘটে যাওয়া একটি ছোট্ট ঘটনা।
মাঠে দাঁড়িয়ে পুরনো সতীর্থ খলিল আহমেদ-এর সঙ্গে গল্প করছিলেন জাডেজা। হঠাৎই খলিলের জার্সিতে থাকা চেন্নাইয়ের লোগোর দিকে ঝুঁকে সেটিতে চুমু খান তিনি। এরপর আলতো করে হাত বুলিয়েও দেন। সেই মুহূর্ত যেন বলে দেয়—সম্পর্ক শুধু দলের নয়, হৃদয়েরও।
এই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্রিকেটপ্রেমীরা জাডেজার এই আচরণে মুগ্ধ। অনেকেই মনে করছেন, পেশাদার খেলাধুলার মাঝেও এমন আবেগই খেলাকে আরও মানবিক করে তোলে।
চেন্নাইয়ের সঙ্গে জাডেজার সম্পর্কও কম দিনের নয়। প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে এই দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। হলুদ জার্সিতে তাঁর অবদানও অসাধারণ—২৩৫৪ রান ও ১৫২ উইকেট। এমনকি এক সময় তাঁকে দলের অধিনায়কত্বও দেওয়া হয়েছিল, যখন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি নেতৃত্ব ছাড়েন। যদিও পরে আবার ধোনিই দায়িত্ব নেন, এবং পরবর্তীতে অধিনায়ক হন রুতুরাজ গায়কোয়াড়।
এ বার অবশ্য নতুন যাত্রা শুরু করেছেন জাডেজা। রাজস্থানের হয়ে প্রথম ম্যাচেই নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। তিন ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন, আউট করেছেন সরফরাজ খান এবং শিবম দুবে-কে।
তবে ম্যাচ শেষে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে খেলাটা তাঁর কাছে সহজ ছিল না। এত বছর একসঙ্গে কাটানোর পরে সেই দলের বিপক্ষে নামা মানেই আবেগ কাজ করবে—এটাই স্বাভাবিক।
তবুও, পেশাদার ক্রিকেটারের মতোই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন তিনি। যে দলের হয়ে আইপিএলে প্রথম সাফল্য পেয়েছিলেন, সেই রাজস্থানে ফিরে আসাও তাঁর কাছে বিশেষ অনুভূতি।
সব মিলিয়ে, জাডেজার এই ছোট্ট মুহূর্ত আবার মনে করিয়ে দিল—ক্রিকেট শুধু জয়ের লড়াই নয়, এটি স্মৃতি, সম্পর্ক আর আবেগের এক অনন্য মেলবন্ধন।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না