গেস্ট হাউসের আড়ালে নারীপাচার থেকে তোলাবাজির অভিযোগ!
বিধাননগরে একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্তে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সায়ন দে। গেস্ট হাউসের আড়ালে বেআইনি কার্যকলাপ, নারীপাচার, তোলাবাজি এবং জমি দখলের মতো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের সুকান্তনগরের বাসিন্দা সায়নের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের একাংশ নানা অভিযোগ তুলে আসছিলেন। অভিযোগ, এলাকায় বেআইনি কর্মকাণ্ড চললেও অতীতে বিষয়টি নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশের কাছে। এরপরই তদন্ত শুরু করে সিট।
তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় কয়েক জন প্রোমোটারের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে সায়নের বিরুদ্ধে। আবার অনেকের দাবি, ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা ফ্ল্যাট পাননি। এই সমস্ত অভিযোগের পাশাপাশি যে গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে, সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং নারীপাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূল সরকারের সময় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখা যেত সায়নকে। একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁদের একই মঞ্চ ভাগ করে নিতেও দেখা গিয়েছে। সেই কারণেই গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়ন দে। তাঁর দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। যে গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে এত অভিযোগ উঠছে, তার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই সম্পত্তির মালিক অন্য ব্যক্তি।
এদিকে বিজেপির বিধাননগর মণ্ডল-২-এর সহ-সভাপতি শান্তনু সরকার দাবি করেছেন, সরকার পরিবর্তনের পর বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। যদিও এই গ্রেফতারি বা সায়নের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সায়নের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সমর্থনে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। পাশাপাশি এই অভিযোগগুলির সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।