গুহামানবের পথেই ত্বকচর্চা! তরুণদের মুগ্ধ করছে ‘কেভম্যান স্কিনকেয়ার’ ট্রেন্ড

তরুণদের মুগ্ধ করছে ‘কেভম্যান স্কিনকেয়ার’ ট্রেন্ড! প্রতিদিন সকালে উঠে মুখ ধোয়া, ফেসওয়াশ, টোনার, ময়েশ্চারাইজার—ত্বকের যত্নে এত ধাপের ধকল সামলাতে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই। অথচ, এর মাঝেই নতুন প্রজন্মের একাংশ হাঁটছে…

May 13, 2025
1 min read

তরুণদের মুগ্ধ করছে ‘কেভম্যান স্কিনকেয়ার’ ট্রেন্ড!

প্রতিদিন সকালে উঠে মুখ ধোয়া, ফেসওয়াশ, টোনার, ময়েশ্চারাইজার—ত্বকের যত্নে এত ধাপের ধকল সামলাতে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই। অথচ, এর মাঝেই নতুন প্রজন্মের একাংশ হাঁটছে একেবারে উল্টো পথে—ত্বকচর্চা একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছেন! আর এই নতুন ধারার নাম—‘কেভম্যান স্কিনকেয়ার’।

এই ট্রেন্ডের ভাবনা খুবই সোজা—গুহামানবরা যেমন নিজেদের ত্বক নিয়ে কিছু ভাবতেন না, আজকের একদল তরুণও তেমনই না ভাবার অভ্যাস গড়ে তুলছেন। কেউ কেবল জল দিয়ে মুখ ধুচ্ছেন, আবার কেউ কেউ তাও করছেন না! প্রসাধনী, ফেসওয়াশ, ক্রিম, এমনকি মুখ ধোয়ার জলের ছোঁয়াও নেই এই রুটিনে।

শুনতে অবাক লাগলেও, এই ট্রেন্ড দুনিয়া জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কেউ বলছেন, এটা পুঁজিবাদ-বিরোধী এক প্রতিরোধ, আবার কেউ বলছেন, একেবারে অর্থহীন এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

কীভাবে কাজ করে এই ‘কেভম্যান স্কিনকেয়ার’?

এই পদ্ধতির অনুসারীদের দাবি, প্রথম কয়েক দিন বা সপ্তাহ ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ এবং বিবর্ণ হয়ে যায়। ত্বকে লালচে দাগ, মৃত কোষের স্তর জমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দেয়। যেন মুখে কোনও ‘মাস্ক’ পরে রয়েছেন কেউ। ঘাম জমলেও মুখ ধোয়া নিষেধ। কিন্তু যারা ধৈর্য ধরে এই পদ্ধতিকে মেনে চলেন, তারা বলছেন, কিছু সপ্তাহ বা মাস পরে ত্বক নাকি নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করে নেয়।

এই সময়ের মধ্যে ত্বকের নিচের স্তর থেকে নতুন কোষ তৈরি হয় এবং পুরনো কোষ নিজে থেকেই ঝরে যায়। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। কারও কারও মতে, এই পরিবর্তনের পর ত্বক এতটাই স্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখায় যে, মনে হয় যেন মেকআপ করা রয়েছে।

চিকিৎসকদের মত ও বিপণনের বিপত্তি

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এই ট্রেন্ড নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ দিন মুখ না ধুলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, ব্রণ, র‍্যাশ বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ হতে পারে। আবার যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস বিপজ্জনকও হতে পারে।

অন্যদিকে, কসমেটিক কোম্পানিগুলো এই প্রবণতা দেখে বেশ চিন্তিত। যদি এই ট্রেন্ড ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তবে প্রসাধনী ব্যবসার একটা বড় অংশ হারাতে বসবে তারা।

কেন এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় হচ্ছে?

সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ট্রেন্ড আসলে আধুনিক ভোগবাদী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। যেখানে প্রতিনিয়ত মানুষকে বলা হচ্ছে কীভাবে আরও সুন্দর দেখাতে হবে, সেখানে এই ট্রেন্ড বলছে—নিজেকে যেমন আছ, তেমনই গ্রহণ করো।

তবে এ কথা ঠিক যে, এই ট্রেন্ড সবার জন্য নয়। তবে যারা নিজের চেহারা, ত্বক বা সৌন্দর্য নিয়ে মানসিক চাপে ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি একধরনের মুক্তির রাস্তা হতে পারে।

শেষ কথা? মুখ ধোবেন কি ধোবেন না, সেটি একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত। তবে গুহামানবের মতো জীবন বেছে নেওয়ার আগে নিজের ত্বকের ধরন আর স্বাস্থ্যের দিকটাও ভেবে নেওয়া দরকার।

বিরাট কোহলির বিদায়: এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, রেখে গেলেন প্রশ্নের রেশ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *