দেবরাজ-অদিতির বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে নতুন চার্জশিট!
বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে ফের চার্জশিট জমা দিল পুলিশ। বুধবার বারাসত আদালতে জমা দেওয়া ওই চার্জশিটে তাঁদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চালানো, জমি দখল, তোলাবাজি এবং প্রতারণার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, তদন্তে বেআইনি পথে পাওয়া অর্থের লেনদেনেরও হদিস মিলেছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে সেই টাকার অংশ পৌঁছনোর কথাও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নাম নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
চার্জশিট জমা দেওয়ার পর সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, বেআইনি পথে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ১০০ কোটির কম নয়। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই অর্থের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী আরও জানান, এই মামলা নিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ ধারা-সহ একাধিক ধারায় এই চার্জশিট জমা পড়েছে। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলেও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও একটি ‘সাপ্লিমেন্টারি’ চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে।
তদন্তকারীদের দাবি, বেআইনি পথে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সেই লেনদেনের বিষয়ে বৈদ্যুতিন নথি-সহ অন্যান্য প্রমাণও পুলিশের হাতে রয়েছে বলে সরকারি আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৬ অগস্ট দেবরাজের বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা পড়েছিল। এ বার তাঁর স্ত্রী অদিতির বিরুদ্ধেও একই মামলায় চার্জশিট দেওয়া হল।
পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছিল সম্পত্তির হিসাব সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগ ছিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেবরাজ ও অদিতি অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে অথবা আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি রাখা, সম্পত্তির তথ্য গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো অভিযোগও রয়েছে। অদিতির নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এই মামলায় আদালতের রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন দেবরাজ এবং অদিতি। শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে অদিতিকে রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে গত ১ জুলাই পুরুলিয়া থেকে দেবরাজকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফের যৌথ দল।
নতুন চার্জশিটে পুলিশ যে অভিযোগগুলি তুলেছে, সেগুলির পাশাপাশি অর্থের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে চার্জশিটে থাকা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।