বিরক্ত কলকাতা হাই কোর্ট! !
জনস্বার্থের নামে একের পর এক মামলা দায়ের হওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যথেষ্ট তথ্য বা নথি ছাড়াই কিছু জনস্বার্থ মামলা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত জনস্বার্থের মামলাগুলির গুরুত্ব এবং আদালতের সময়—দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বুধবার পর পর কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে আদালত জানায়, জনস্বার্থ মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যে কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে কিংবা পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়া আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায় না। এমন মামলার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার কথাও বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানায় ডিভিশন বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি আরও জানান, জরিমানার অর্থ বার লাইব্রেরিতে বই কেনার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, আইনজীবীরা যদি এই ধরনের মামলা আদালতে নিয়ে আসেন, তা হলে মামলার দায়বদ্ধতার পাশাপাশি জরিমানার বিষয়টিও তাঁদের মাথায় রাখতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আইনজীবীদের উদ্দেশে আরও প্রশ্ন তোলা হয়—কেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা তথ্য ছাড়া এই ধরনের মামলার পিছনে সময় ব্যয় করা হচ্ছে? নিজের পেশাগত লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সেই সময় ব্যয় করার পরামর্শও দেন প্রধান বিচারপতি।
হাই কোর্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, চলতি বছর এখনও পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টে ৪৭৫টিরও বেশি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। গত বছর সংখ্যাটি ছিল ৬০০-র বেশি। বিপুল সংখ্যক মামলা দায়ের হওয়ায় কোন আবেদন প্রকৃত অর্থে বৃহত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত এবং কোনটি পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে করা হয়েছে, তা নিয়ে আদালতের সামনে কাজের চাপও বাড়ছে।
জনস্বার্থ মামলা সাধারণ মানুষের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি পথ। তাই আদালতের পর্যবেক্ষণের মূল জায়গা হল, এই প্রক্রিয়াকে যেন ব্যক্তিগত বা অপর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা আবেদনের মাধ্যমে অকারণে ব্যস্ত না করে ফেলা হয়। বুধবারের মন্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট করেছে কলকাতা হাই কোর্ট।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।