‘গজনি’র ধর্মাত্মা আর নেই!
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা প্রদীপ রাম সিংহ রাওয়াত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই অম্বানী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সহকারী সিদ্ধার্থ তিওয়ারি জানিয়েছেন, রক্তের ক্যানসার ফের ফিরে আসায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল।
প্রায় চার দশকের অভিনয়জীবনে ২০০-রও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন প্রদীপ রাওয়াত। হিন্দির পাশাপাশি তেলুগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম এবং নেপালি চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের শক্তিশালী অভিনয়ের ছাপ রেখে গিয়েছেন। খলনায়ক হোক কিংবা চরিত্রাভিনেতা— প্রতিটি ভূমিকাতেই তিনি ছিলেন সমান সাবলীল।
১৯৮৫ সালে ‘অ্যায়েতবার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রদীপ। এরপর ‘মেরি জং’, ‘সমুন্দর’, ‘কাশ’, ‘ইনসাফ’ এবং ‘মর মিটেঙ্গে’র মতো একাধিক ছবিতে অভিনয় করলেও তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় মোড় আসে ‘লগান’ এবং ‘গজনি’ ছবিতে। ‘লগান’-এ দেবা সিংহ সোধির চরিত্রে তাঁর অভিনয় যেমন দর্শকদের মন জয় করেছিল, তেমনই ‘গজনি’-তে নির্মম খলনায়ক ধর্মাত্মার ভূমিকায় তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় ভিলেন।
পরিচালক এ আর মুরুগাদোসের তামিল ‘গজনি’ ছবিতে সূর্যের বিপরীতে তাঁর অভিনয় এতটাই প্রশংসিত হয় যে, ২০০৮ সালে আমির খান অভিনীত হিন্দি রিমেকেও একই চরিত্রে তাঁকেই নেওয়া হয়। এই চরিত্রই তাঁকে সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোট পর্দাতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। বি. আর. চোপড়ার কালজয়ী ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সেই সাফল্যের পর থেকেই নির্মাতাদের অন্যতম ভরসাযোগ্য চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০০৪ সালে ‘সায়ে’ ছবির মাধ্যমে তেলুগু চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘ভদ্র’, ‘জগপতি’, ‘স্ট্যালিন’, ‘সাররাইনোডু’, ‘নেনে রাজু নেনে মন্ত্রী’, ‘নেনু শৈলজা’, ‘লৌক্যম’-সহ একাধিক দক্ষিণী ছবিতে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত শেষ হিন্দি ছবি ছিল ভিকি কৌশল অভিনীত ‘ছাওয়া’, আর চলতি বছর মুক্তি পেয়েছে তাঁর শেষ তেলুগু ছবি ‘গায়াপড্ডা সিমহম’।
অভিনেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন বহু সহকর্মী। ‘লগান’-এর সহ-অভিনেতা যশপাল শর্মা সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আমাদের ‘লগান’-এর দেবা আর নেই। শান্তিতে থাকুন, প্রদীপ রাওয়াত।” অভিনেতা সোনু সুদও তাঁকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান।
১৯৫২ সালের ২১ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্মগ্রহণ করেন প্রদীপ রাওয়াত। অভিনয়ের বাইরে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। পরিবারকে সবসময়ই গুরুত্ব দিতেন তিনি। স্ত্রী কল্যাণী রাওয়াত এবং পুত্র বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
পর্দায় তাঁর ভয়ঙ্কর খলচরিত্র দর্শকদের মনে আতঙ্কের ছাপ ফেললেও, সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন বিনয়ী, উদার এবং অত্যন্ত মিষ্টভাষী একজন মানুষ। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র হারাল এক অসাধারণ চরিত্রাভিনেতাকে, যার অভিনয় আগামী দিনেও দর্শকের মনে সমানভাবে বেঁচে থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?