খেলতে নেমেই বড় ধাক্কা, ১১২৪ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স!!
সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিনেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ারবাজার। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর দিনের শেষে ১১২৪.০২ পয়েন্ট পড়ে সেনসেক্স থামল ৭২,৭৭১.৭২-তে। পতনের হার ১.৫২ শতাংশ। অন্য দিকে নিফটি ৫০ কমেছে ৩৬০.২৫ পয়েন্ট বা ১.৫৬ শতাংশ। ২২,৭৮০.২৫-এ বন্ধ হয়েছে জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের এই সূচক। সাম্প্রতিক পতনের জেরে দু’টি সূচকই ছ’মাসের তলানির কাছাকাছি নেমে গিয়েছে।
শুধু বড় সূচক নয়, সোমবার বাজারের প্রায় সব অংশেই বিক্রির চাপ দেখা গিয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ ১.৬ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ ১.৮ শতাংশের মতো কমেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, টেলিকম, ধাতু, রিয়েল এস্টেট, জ্বালানি এবং আর্থিক পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সূচক নীচে নেমেছে। ব্রড মার্কেটেও বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা স্পষ্ট ছিল।
এর পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং আমেরিকা-ইরান আলোচনায় অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ফের ১০৬ ডলারের আশপাশে উঠে যায়। ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের ক্ষেত্রে দাম বাড়লে আমদানি খরচ এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশ্বের বন্ড বাজারের পরিস্থিতিও ভারতীয় বাজারের উপর চাপ তৈরি করেছে। আমেরিকার ট্রেজারি বন্ড-সহ বিভিন্ন সরকারি বন্ডের ফলন বাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে এই বিষয়টি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
এর সঙ্গে রয়েছে বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রি। ২৫ সেপ্টেম্বর বিদেশি পোর্টফোলিয়ো বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারে প্রায় ৩,৬৯৪ কোটি টাকা বিক্রি করেছিলেন, যদিও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি প্রায় ২,৮৩৮ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিল। সেপ্টেম্বর মাসে বিদেশি বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহও বাজারের উপর চাপ বাড়িয়েছে।
সোমবারের ধাক্কা অবশ্য হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে টানা সপ্তম সপ্তাহ পতন হয়েছিল নিফটির। ওই সপ্তাহে নিফটি ৫০ কমেছিল ০.৮৮ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি অব্যাহত ছিল এবং অপরিশোধিত তেলের দামও বাজারের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছিল।
দিনের শেষে সেনসেক্সের ৩০টি শেয়ারের মধ্যে অধিকাংশই লাল ছিল। এলঅ্যান্ডটি, আদানি পোর্টস, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ়, এসবিআই এবং ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় ওজনের শেয়ারগুলিতে চাপ বাজারের পতনকে আরও বাড়িয়েছে। বিপরীতে ইনফোসিস এবং টেক মাহিন্দ্রার মতো হাতে গোনা কয়েকটি শেয়ার তুলনামূলক ভাবে ভাল ছিল।
বাজারের মোট মূল্যায়নেও এর প্রভাব পড়েছে। সোমবারের লেনদেনের এক পর্যায়ে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজার মূলধন প্রায় ৫.৮২ লক্ষ কোটি টাকা কমেছিল বলে ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফলে এখন বাজারের নজর মূলত তেলের দাম, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, বিশ্বব্যাপী বন্ডের ফলন এবং বিদেশি লগ্নিকারীদের গতিবিধির দিকে। এই বিষয়গুলির পরিবর্তনের উপরই আগামী দিনে বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।