খাওয়াদাওয়ার ভুলে কি সোরিয়াসিস বাড়তে পারে?
সোরিয়াসিস, একটি দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের অসুখ, যা ছোঁয়াচে না হলেও, আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে। ত্বকে অস্বাভাবিক স্কেল বা খোসা ওঠা, জ্বালা, চুলকানি এবং প্রদাহ—এ ধরনের উপসর্গগুলি সোরিয়াসিসের প্রধান লক্ষণ। এই অসুখে ত্বকের উপরের স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা গা dark ় বা সাদা দাগের আকারে দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সোরিয়াসিস শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শীতকালে এর উপসর্গ আরও খারাপ হয়ে যায়। তবে সোরিয়াসিসের চিকিৎসা কেবল ওষুধেই সীমাবদ্ধ নয়, খাওয়াদাওয়ার দিকেও খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কী খাবেন এবং কী খাবেন না, তা সোরিয়াসিসের চিকিৎসায় অনেকটা প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক ডায়েট অনুসরণ করে এই অসুখের প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সোরিয়াসিসে কি খাবারের প্রভাব পড়ে?
সোরিয়াসিসের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, এবং কিছু বিশেষ ধরনের খাবার অবশ্যই খেতে হবে। কিছু খাবার সোরিয়াসিসের অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে, যেমন স্যাচুরেটেড ফ্যাট, অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফ্রোজেন ফুড, অ্যালকোহল, এবং গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার। এগুলি শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে সোরিয়াসিসের উপসর্গ বাড়াতে সাহায্য করে।
কী কী খাবেন?
তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা সোরিয়াসিসের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে এবং রোগীকে সুস্থ রাখতে সহায়ক।
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: সোরিয়াসিসের জন্য সবচেয়ে উপকারী খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। মাছে প্রচুর পরিমাণে এই অ্যাসিড থাকে, বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ যেমন ভেটকি, পমফ্রেট, এবং ইলিশ। এই মাছগুলি সোরিয়াসিসের প্রভাব কমাতে সহায়ক। আমেরিকান অ্যাকাডেমি ডার্মাটোলজি রিপোর্টেও বলা হয়েছে, সামুদ্রিক মাছ ত্বকের সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে।
- লিন ফ্যাট: মাংস খেলে অবশ্যই চর্বি কম বা লিন মিট খাওয়া উচিত। চিকেন বা ছোট মাছ, যেমন রুই বা পাবদা, খান। লিন মিটের তুলনায় রেড মিটে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা সোরিয়াসিসের অবস্থা খারাপ করে ফেলতে পারে।
- সবুজ শাকসবজি ও ফল: সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ভিটামিন এ, ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এসব খাবার ত্বককে সুস্থ রাখে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পালং শাক, ব্রোকোলি, এবং বেরি জাতীয় ফল—এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: শিম, কড়াইশুঁটি, মটরশুঁটি, এগুলি ফাইবার, ক্যালশিয়াম এবং পটাশিয়ামের ভালো উৎস। এই ধরনের খাবার খেলে শরীরে প্রদাহ কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা সোরিয়াসিসের লক্ষণগুলি আরও বাড়তে দেয় না।
- বাদাম এবং বীজ: বাদাম, যেমন কাঠবাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়োর বীজ, তিসির বীজ, এবং চিয়া বীজে রয়েছে ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলি সোরিয়াসিসের সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে, এদের খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত, কারণ অতিরিক্ত খেলে এসব খাবারও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
কী খাবেন না?
- স্যাচুরেটেড ফ্যাট: ফাস্ট ফুড, ভাজাভুজি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো সোরিয়াসিসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই ধরনের খাবারে বেশি পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা শরীরে প্রদাহ বাড়ায়।
- অ্যালকোহল: অ্যালকোহল সোরিয়াসিসের অবস্থাকে আরও খারাপ করতে পারে। এটি ত্বকের শুষ্কতা এবং আর্দ্রতার সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা প্রদাহকে বাড়িয়ে দেয়।
- গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার: গ্লুটেন সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যাদের গ্লুটেন অসহিষ্ণুতা রয়েছে। গ্লুটেন মুক্ত খাবার খাওয়া সোরিয়াসিসের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।
শেষ কথা: সোরিয়াসিস একটি কঠিন রোগ, তবে সঠিক ডায়েট এবং খাবারের মাধ্যমে আপনি তার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিয়ে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে আপনি এই রোগের উপসর্গ কমিয়ে আনতে পারবেন।