ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে চিঠি সৌরভের!
পশ্চিমবঙ্গের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী Indranil Khan-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ একটি চিঠি জমা দিলেন Sourav Ganguly। Cricket Association of Bengal-এর সভাপতি হিসেবে দেওয়া ওই চিঠিতে একদিকে যেমন সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরা হয়েছে, তেমনই প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রাক্তন সভাপতি Abhishek Dalmiya-র সাম্প্রতিক খোলা চিঠি নিয়ে।
বুধবারের বৈঠকে সৌরভের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। এছাড়াও সহ-সভাপতি নীতীশ রঞ্জন দত্ত, সচিব বাবলু কোলে এবং প্রাক্তন যুগ্ম সচিব মদন মোহন ঘোষের স্বাক্ষরও ছিল তিন পাতার ওই চিঠিতে।
গত ১৩ জুন ক্রীড়ামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। সেখানে তিনি ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অবক্ষয় এবং দল নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সৌরভদের দাবি, সিএবি দীর্ঘদিন ধরেই সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বাধীন ওমবাডসম্যান এবং এথিক্স অফিসারের ব্যবস্থা রয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে Jyotirmoy Bhattacharya ওমবাডসম্যান এবং এথিক্স অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর কাছে যে কোনও ক্রিকেটার, কোচ, অভিভাবক বা প্রশাসক সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন এবং সেই অভিযোগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হয়।
সিএবি-র ইতিহাস তুলে ধরে সৌরভদের বক্তব্য, গত তিন দশকে একাধিক প্রশাসক সংস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন Jagmohan Dalmiya, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিষেক ডালমিয়া এবং Snehasish Ganguly-র মতো ব্যক্তিত্ব। এত বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে সংস্থার বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযোগ ওঠেনি বলেই দাবি করা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে অভিষেকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, তাঁর খোলা চিঠি এমন একটি ধারণা তৈরি করছে যেন তাঁর নিজের মেয়াদ বাদে বাকি সব সময়েই প্রশাসনিক অনিয়ম ছিল। সিএবির মতে, এটি বহু নিষ্ঠাবান ও স্বেচ্ছাসেবী প্রশাসকের কাজকে অসম্মান করার শামিল।
তবে অভিষেক যে পৃথক দুর্নীতিদমন হেল্পলাইনের দাবি তুলেছেন, সেই প্রস্তাবের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত সৌরভরা। তাঁদের বক্তব্য, ওমবাডসম্যানের ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই থাকলেও অতিরিক্ত হেল্পলাইন চালু হলে তা স্বচ্ছতা আরও বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাই ক্রীড়ামন্ত্রীকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সৌরভদের প্রশ্ন, অভিষেক ডালমিয়া ২০২২ সাল পর্যন্ত সিএবির গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং সংস্থার সমস্ত অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। সে ক্ষেত্রে তিনি কেন এত দিন কোনও অভিযোগ তুললেন না এবং কেন এখন জনসমক্ষে খোলা চিঠি প্রকাশের পথ বেছে নিলেন, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চিঠির শেষে ক্রীড়ামন্ত্রীকে সিএবি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থার প্রায় ১৪০ জন সদস্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করারও অনুরোধ জানিয়েছে সিএবি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট প্রশাসন একটি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং রাজ্যের তরুণ ক্রিকেটারদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?