ক্রিকেটে ফের হ্যান্ডশেক বিতর্ক! রিজওয়ানের আচরণে ক্ষুব্ধ লিটন, উঠল অসম্মানের অভিযোগ

রিজওয়ানের আচরণে ক্ষুব্ধ লিটন! মাঠের লড়াই মাঠেই শেষ হওয়া উচিত— ক্রিকেটে এই অলিখিত নিয়ম বহু বছর ধরেই মেনে চলেছেন খেলোয়াড়েরা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে করমর্দন সেই ক্রীড়াসুলভ মানসিকতারই প্রতীক। কিন্তু…

June 8, 2026
1 min read

রিজওয়ানের আচরণে ক্ষুব্ধ লিটন!

মাঠের লড়াই মাঠেই শেষ হওয়া উচিত— ক্রিকেটে এই অলিখিত নিয়ম বহু বছর ধরেই মেনে চলেছেন খেলোয়াড়েরা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে করমর্দন সেই ক্রীড়াসুলভ মানসিকতারই প্রতীক। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজকে ঘিরে সেই সৌজন্য নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন, সিরিজ শেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক মহম্মদ রিজওয়ান বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, শুধু একবার নয়, সিরিজের দুই টেস্টেই একই আচরণ করেছেন রিজওয়ান।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিটন বলেন, মাঠে উত্তেজনা, স্লেজিং বা তর্ক-বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার পর সেই সব ভুলে গিয়ে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানোই ক্রিকেটের সংস্কৃতি। তাঁর কথায়, “ম্যাচ শেষে সবাই হাত মেলায়। কিন্তু প্রথম টেস্টে হারের পর রিজওয়ান আমাদের কারও সঙ্গে হাত মেলাননি। বিষয়টি আমার খুব খারাপ লেগেছে। যত বড় ক্রিকেটারই হোন না কেন, এমন আচরণ ঠিক নয়।”

লিটনের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি দাবি করেছেন, দ্বিতীয় টেস্টেও একই ঘটনা ঘটেছে। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা থাকলেও সেটিকে পুরো দলের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। লিটন বলেন, “আমার সঙ্গে ওর মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু দলের অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে তো কোনও সমস্যা ছিল না। তবুও কারও সঙ্গে হাত মেলাল না। এটা বাংলাদেশের প্রতি অসম্মান।”

এই বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য প্রথম টেস্ট থেকেই। সেই ম্যাচে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে রিজওয়ানকে স্লেজিং করেছিলেন লিটন। সেই ঘটনাই দুই ক্রিকেটারের সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। লিটনও স্বীকার করেছেন, রিজওয়ানের কিছু আচরণ তাঁর ভালো লাগেনি।

তিনি বলেন, “প্রথম টেস্টে একটা ঘটনা ঘটেছিল, যা আমার পছন্দ হয়নি। সবাই জানে রিজওয়ান অনেক সময় খেলায় সময় নষ্ট করার চেষ্টা করে। প্রচণ্ড গরমে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে আমারও কষ্ট হচ্ছিল। তখনই মনে হয়েছিল, কিছু একটা বলা দরকার।”

ঘটনাটি নিয়ে ক্রিকেটমহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত বছর এশিয়া কাপেও ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে ম্যাচ-পরবর্তী হ্যান্ডশেক না হওয়ার ঘটনা শিরোনামে এসেছিল। তবে সেই সময় দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনাকেই কারণ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তেমন কোনও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নেই। বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নানা ইস্যুতে দুই দেশের বোর্ডকে একাধিকবার একই অবস্থানে দেখা গিয়েছে। সেই কারণেই এই বিতর্ক আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত রিজওয়ান বা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনও প্রকাশ্য জবাব দেওয়া হয়নি। ফলে বিতর্কের আসল সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু লিটনের মন্তব্যের পর একটি বিষয় স্পষ্ট— মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, ক্রিকেটপ্রেমীরা এখনও খেলাটির সৌজন্য ও সম্মানের ঐতিহ্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *