করুণ নায়ারে নতুন ভরসা!
ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটতে চলেছে। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার অবসরের পর ভারতের টেস্ট দল এবার মুখোমুখি হচ্ছে এক কঠিন বিদেশ সফরের—ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজে টিম ইন্ডিয়া থাকবে একেবারেই নতুন চেহারায়। কোহলি-রোহিতহীন এই দলকে নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ভারতীয় দলের নতুন কোচ গৌতম গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—পুরনোদের নিয়ে আর ভাবছেন না তিনি, এখন নজর ভবিষ্যতের দিকে।
দিল্লি ছাড়ার আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গম্ভীর ও নতুন টেস্ট অধিনায়ক শুভমন গিল জানিয়ে দিলেন, তাঁদের দল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। গম্ভীর বললেন, “রোহিত-কোহলির অবসর আমাদের ভাবাচ্ছে না। আমাদের হাতে প্রতিভাবান তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মিশ্রণ রয়েছে। এটা দলের বাকিদের জন্য নিজেকে প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ।” গম্ভীরের চোখে এই সিরিজ কেবলই এক চ্যালেঞ্জ নয়, বরং ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর।
বিরাট কোহলির শূন্যস্থান পূরণে দল বেছে নিয়েছে করুণ নায়ারকে। দীর্ঘ আট বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটছে এই মিডল অর্ডার ব্যাটারের। নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর আগেই জানিয়েছেন, করুণের ধারাবাহিক ফর্ম ও কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাই তাঁকে কোহলির বদলি হিসেবে এগিয়ে রেখেছে। গম্ভীরও করুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, “করুণ দারুণ ছন্দে রয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিশতরান করেছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত ফর্মে আছে, আর ওর ইংল্যান্ডের পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের খুব কাজে লাগবে।” কোহলির জায়গাতেই করুণকে খেলানোর ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
এদিকে, টেস্ট সিরিজে ভারতের প্রথম একাদশ কেমন হবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। শুভমন জানালেন, “আমরা ইংল্যান্ডে গিয়ে ১০ দিনের শিবির করব, প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। তার পর ঠিক করব কে কেমন খেলবে, সেই অনুযায়ী একাদশ তৈরি হবে।” পিচ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে দল সাজানোর কথা জানালেন গম্ভীরও। ইংল্যান্ডে আবহাওয়া এবং উইকেটের মেজাজের উপর নির্ভর করে ঠিক হবে পেসার ও অলরাউন্ডারদের ভাগাভাগি।
বুমরাহকে নিয়ে এক প্রশ্নও উঠে এল সাংবাদিক সম্মেলনে। চোট সারিয়ে ফিরলেও পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা নেই বলেই জানালেন কোচ। গম্ভীর বললেন, “বুমরাহ কোন কোন ম্যাচে খেলবে তা সিরিজের গতি প্রকৃতি বুঝেই ঠিক করব। তবে ও না খেললেও আমাদের হাতে বেশ কিছু বিকল্প পেসার রয়েছে।”
শুভমন গিল, নতুন অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার টেস্ট দলের দায়িত্বে। তাঁর নেতৃত্ব কেমন হবে? এর উত্তরে শুভমন বলেন, “আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলি, ওদের শক্তি-দুর্বলতা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সবাই মন খুলে খেলতে পারে।” তিনি নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই নেতৃত্ব দিতে চান বলে জানালেন।
সব মিলিয়ে, ভারতীয় দল এখন এক ট্রানজিশন পর্বে দাঁড়িয়ে। অভিজ্ঞতার শূন্যস্থান পূরণে তৈরি নতুন মুখ, নতুন অধিনায়ক ও নতুন কোচ। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ—ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচটি টেস্ট। এই নবযাত্রা কতটা সফল হবে, তার উত্তর সময়ই দেবে, তবে গম্ভীর-শুভমনের কথায় আশার আলো দেখছে ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা।