টানা তৃতীয় হারে ধাক্কায় পঞ্জাব!
এক দিকে একা হাতে লড়াই করে শতরান, অন্য দিকে দলের পরাজয়। বুধবারের আইপিএল ম্যাচে কুপার কোনোলির রাতটা ঠিক এমনই রইল। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেও দলকে জেতাতে পারলেন না অস্ট্রেলিয়ার তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৩৩ রানে হার মানতে হল পঞ্জাব কিংসকে। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেল সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ।
ম্যাচে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল হায়দরাবাদ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ট্র্যাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মার ওপেনিং জুটি পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচের রং বদলে দেয়। মাত্র ৩২ বলে ৭৩ রান তুলে পঞ্জাবের বোলারদের উপর চাপ বাড়িয়ে দেন তাঁরা। অভিষেক ১৩ বলে ৩৫ রান করে আউট হলেও, হেডও দ্রুত ৩৮ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভিত গড়ে দেন।
এর পর ইনিংসের হাল ধরেন ঈশান কিশন এবং হাইনরিখ ক্লাসেন। পঞ্জাবের ফিল্ডাররা একাধিক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় আরও সুবিধা পেয়ে যান তাঁরা। ঈশানের ক্যাচ পড়ে দু’বার, ক্লাসেনও জীবন পান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দু’জনেই অর্ধশতরান করেন। ঈশান ৩২ বলে ৫৫ রান করেন, আর ক্লাসেন খেলেন ৪৩ বলে ৬৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস। শেষে নীতীশ কুমার রেড্ডির ১৩ বলে ২৯ রানের ক্যামিওতে ২০ ওভারে ২৩৫ রান তোলে হায়দরাবাদ।
পঞ্জাবের বোলিং ছিল হতাশাজনক। চার পেসারই প্রচুর রান দেন। শুধু যুজবেন্দ্র চহল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছিলেন। কিন্তু এত বড় স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রেয়স আয়ারের দল।
মাত্র ৩.২ ওভারের মধ্যে ফিরে যান প্রিয়াংশ আর্য, প্রভসিমরন সিংহ এবং অধিনায়ক শ্রেয়স। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি পঞ্জাব। দলের ব্যাটিং লাইনআপ যেন একের পর এক ভেঙে পড়ছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে একা লড়াই শুরু করেন কুপার কোনোলি।
স্টোইনিস কিছুটা সঙ্গ দিলেও বড় রান তাড়া করতে গিয়ে ঝুঁকি নিতেই হত। আর সেই চেষ্টাতেই উইকেট হারাতে থাকে পঞ্জাব। অন্য প্রান্তে ব্যাটাররা আসা-যাওয়া করলেও কোনোলি নিজের ছন্দ ধরে রাখেন। চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে তিনি শতরান পূর্ণ করেন। মাত্র ৫৯ বলে অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই লড়াই দলকে জয়ের মুখ দেখাতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০২ রানেই থামে পঞ্জাবের ইনিংস। হারের হ্যাটট্রিক হল শ্রেয়সদের। প্রথম সাত ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর টানা তিন ম্যাচে হার তাদের আত্মবিশ্বাসেও বড় ধাক্কা দিল।
অন্য দিকে, হায়দরাবাদ আবারও দেখিয়ে দিল কেন তারা এ বারের আইপিএলের অন্যতম শক্তিশালী দল। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই তারা স্পষ্ট ভাবে এগিয়ে ছিল। আর পঞ্জাবের জন্য এই ম্যাচ যেন একটা বড় সতর্কবার্তা— শুধু একজনের উপর ভর করে আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা