কে এই দুই ‘ককরোচ’ নেতা? নড্ডাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে সৌরভ-আশুতোষ

কে এই দুই ‘ককরোচ’ নেতা? নিট প্রশ্নফাঁস এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম মুখ এখন দুই যুবক— সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। ককরোচ জনতা…

July 24, 2026
1 min read

কে এই দুই ‘ককরোচ’ নেতা?

নিট প্রশ্নফাঁস এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম মুখ এখন দুই যুবক— সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিনিধিত্ব করে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তাঁরা। বৈঠকের পর থেকেই তাঁদের পরিচয়, অতীত এবং আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে দেশজুড়ে।

সৌরভ দাস সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র। নিট কেলেঙ্কারি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি এবং ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। দিল্লির সাংবাদিক মহলে অবশ্য তিনি নতুন নন। গত ছয়-সাত বছর ধরে স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে আইন, বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন লিখে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

সাংবাদিকতায় আসার আগে তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই) কর্মী হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন সৌরভ। অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ নিয়ে পড়াশোনা করার পর জনস্বার্থমূলক নানা বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর হস্তক্ষেপের জেরে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি।

২০১৮ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন সৌরভ। তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ক্যারাভান’, ‘দ্য হিন্দু’, ‘দ্য ওয়্যার’, ‘আর্টিকেল ১৪’ এবং ‘আল জাজ়িরা’-র মতো সংবাদমাধ্যমে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিয়ে তাঁর একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বর্তমানে বিচারব্যবস্থা নিয়ে একটি বইও লিখছেন তিনি।

ঘটনাচক্রে দেশের প্রধান বিচারপতির ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির জন্ম। আর সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন সৌরভ। তাঁর দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে আন্দোলন নয়। সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। বিজেপি-বিরোধী শক্তির মদতের অভিযোগও স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছেন তিনি।

সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার পথচলা কিছুটা আলাদা। রাজস্থানের বাসিন্দা আশুতোষ আইআইটি কানপুর এবং লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সের প্রাক্তনী। বিদেশে বহুজাতিক সংস্থায় উচ্চপদে কাজ করলেও পরে সেই চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। শিক্ষা, পরিবেশ এবং যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

এক সময়ে আম আদমি পার্টির সঙ্গেও কাজ করেছিলেন আশুতোষ। তবে বর্তমানে নিজেকে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, নাগরিক আন্দোলনের কর্মী হিসেবেই পরিচয় দেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক না করা পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেও অনড় রয়েছেন তিনি।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে কোনও চূড়ান্ত সমাধান না হলেও আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। শনিবার আরও এক দফা বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা— লিখিত আশ্বাস এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রশ্নই নেই।

দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মুখ হয়ে এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত দুই তরুণ সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics
CJP

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *