কেমো নয়, এবার জোড়া ওষুধেই স্তন ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে!
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। কেমোথেরাপি কিংবা রেডিয়োথেরাপির বদলে এবার জোড়া ওষুধেই টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে দাবি গবেষকদের। ফলে রোগীর কষ্ট যেমন কমবে, তেমনই বাড়বে জীবনকালও।
শিকাগোতে ‘আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্লিনিক্যাল অনকোলজি’-র অধীনে এই গবেষণা হয়েছে। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে খ্যাতনামা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন-এ। গবেষকদের দাবি, নতুন ওষুধে ক্যানসারের প্রকোপ ধীর হবে এবং ক্যানসার কোষের পুনরায় ফিরে আসার প্রবণতাও বন্ধ হবে।
কী রয়েছে এই নতুন চিকিৎসায়?
দুটি নতুন ওষুধ— ইনাভোসিলিব ও পালবোসিসলিব— একসঙ্গে প্রয়োগ করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, ফ্রান্স-সহ ২৮টি দেশে। সেখানে দেখা গিয়েছে, এই ওষুধ দুটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রায় ১৭ মাস পর্যন্ত থামিয়ে দিতে সক্ষম। শুধু তা-ই নয়, এই চিকিৎসা ক্যানসারের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে রোগীর শরীরকে দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
কেমোথেরাপির বিকল্প?
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রেই স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে দ্রুত। কিন্তু প্রথম ধাক্কা সামলে ওঠার পর তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই আবার ফিরে আসে রোগ। কখনও কখনও তা ১০-১২ বছর পরও ঘটে। একে বলে মেটাস্ট্যাটিক ডেভেলপমেন্ট— অর্থাৎ, ক্যানসার কোষ রক্তের মাধ্যমে দেহের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণত তখন আবার কেমোথেরাপির প্রয়োজন পড়ে। তবে সেই পথ যথেষ্ট কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। নতুন এই ওষুধ দু’টি সেই প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে দেয়। ইনাভোসিলিব সরাসরি ক্যানসারের জন্য দায়ী ‘PIK3CA’ প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে, যা ক্যানসারকে বারবার ফিরে আসার সুযোগ দেয়।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
গবেষকরা মনে করছেন, বাজারে এই ওষুধ দুটি সহজলভ্য হলে অনেক রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতিতে বিপ্লব ঘটবে। শুধুই যে জীবন বাঁচবে তা নয়, চিকিৎসা খরচও অনেকটা কমে আসবে। তবে আপাতত চলছে ট্রায়াল পর্যায়। আরও কিছু মাস লাগবে এর পুরো ফলাফল বিশ্লেষণে।
চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই ওষুধ দুটি বাজারে আসবে। তবে এখনই আশাবাদী চিকিৎসা মহল। তাঁদের মতে, এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ স্তন ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে— যা হাজার হাজার নারীর জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।
পাতিলেবু খেলে মাইগ্রেন কমে? ডাক্তাররা যা বলছেন ভাইরাল টোটকা নিয়ে