কেবিসি-র মঞ্চ থেকে আইপিএসের ইউনিফর্ম!
ভারতে অনেক তরুণ-তরুণীরই স্বপ্ন থাকে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার। কিন্তু ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হওয়া সহজ নয়— কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং দৃঢ় মনোবল ছাড়া সেই স্বপ্ন পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। তবু কিছু মানুষ নিজের অধ্যবসায়ের জোরে সেই কঠিন পথ পেরিয়ে অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। তেমনই এক গল্প Ravi Mohan Saini-র।
আজ তিনি একজন আইপিএস অফিসার। কিন্তু বহু বছর আগে, কিশোর বয়সেই তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন কুইজ় শোর মাধ্যমে।
২০০১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি অংশ নিয়েছিলেন জনপ্রিয় কুইজ় শো Kaun Banega Crorepati Junior-এ। সেই সময় তিনি দশম শ্রেণির ছাত্র। শোটির সঞ্চালক ছিলেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা Amitabh Bachchan। অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও জ্ঞানের জোরে একের পর এক কঠিন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেন রবি। শেষ পর্যন্ত ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জিতে নেন ১ কোটি টাকা। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন সারা দেশের পরিচিত মুখ।
পরে এক সাক্ষাৎকারে রবি জানিয়েছিলেন, কেবিসিতে অংশ নেওয়ার পেছনে তাঁর একটি বিশেষ কারণ ছিল— অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা।
রাজস্থানের আলওয়ারের একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। রবির বাবা ভারতীয় নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাবার চাকরির সূত্রেই তিনি পড়াশোনা করেন নেভাল পাবলিক স্কুলে। ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন রবি।
স্কুল শেষ করার পর তিনি চিকিৎসক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভালো ফল করে ভর্তি হন Mahatma Gandhi Medical College-এ। সেখান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের পর কিছু দিন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হিসেবেও কাজ করেন।
কিন্তু এর মধ্যেই তাঁর জীবনের লক্ষ্য বদলে যায়। তিনি ঠিক করেন, এবার চেষ্টা করবেন দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা— UPSC Civil Services Examination।
২০১২ সালে প্রথমবার পরীক্ষায় বসেন রবি। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও মেইনস পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। অনেকেই হয়তো সেই ব্যর্থতায় থেমে যেতেন। কিন্তু রবি হার মানেননি। বরং আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আবার প্রস্তুতি শুরু করেন।
২০১৩ সালে তিনি আবার পরীক্ষায় বসেন। সেই বছর প্রিলিমিনারি এবং মেইনস— দুই পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হন। যদিও তখন তিনি আইপিএস হননি। বরং যোগ দেন Indian Post and Telecom Accounts and Finance Service-এ।
তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেওয়া। তাই আবার চেষ্টা করেন। ২০১৪ সালে আবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন এবং সর্বভারতীয় স্তরে ৪৬১তম স্থান অর্জন করেন। সেই ফলাফলের ভিত্তিতেই তিনি Indian Police Service-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ পান।
প্রশিক্ষণ শেষে তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে গুজরাতের Porbandar জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।
কিশোর বয়সে কেবিসি-র মঞ্চে কোটি টাকা জেতা থেকে শুরু করে কঠিন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হয়ে আইপিএস অফিসার হওয়া— রবিমোহন সাইনির জীবনযাত্রা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। তাঁর গল্প মনে করিয়ে দেয়, লক্ষ্য যদি পরিষ্কার থাকে এবং পরিশ্রমে যদি কোনও খামতি না থাকে, তবে সাফল্য এক দিন না এক দিন আসবেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?