কৃত্রিম হিরের দাপটে ধাক্কা প্রাকৃতিক হিরের বাজারে, ২২০ কোটি ডলারের প্রকল্পেও উৎপাদন থামাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থা

কৃত্রিম হিরের দাপটে ধাক্কা প্রাকৃতিক হিরের বাজারে! প্রাকৃতিক হিরের বাজারে বড় ধাক্কা। গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম হিরে বা ‘ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড’-এর দ্রুত জনপ্রিয়তায় বিশ্বজুড়ে কমছে খনিজ হিরের চাহিদা। তারই প্রভাব পড়েছে বিশ্বের…

July 26, 2026
1 min read

কৃত্রিম হিরের দাপটে ধাক্কা প্রাকৃতিক হিরের বাজারে!

প্রাকৃতিক হিরের বাজারে বড় ধাক্কা। গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম হিরে বা ‘ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড’-এর দ্রুত জনপ্রিয়তায় বিশ্বজুড়ে কমছে খনিজ হিরের চাহিদা। তারই প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম হিরে উৎপাদক সংস্থা ডি বিয়ার্সের উপর। দক্ষিণ আফ্রিকার ভেনেটিয়া খনিতে প্রায় ২২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরেও আগামী দু’বছরের জন্য উৎপাদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

দক্ষিণ আফ্রিকার মোট হিরে উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে ভেনেটিয়া খনি থেকে। ডি বিয়ার্সের বৈশ্বিক উৎপাদনেরও প্রায় ১০ শতাংশের উৎস এই খনি। এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট, বিশ্ববাজারে পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে।

উন্মুক্ত খনির হিরের ভান্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার পরে বহু অর্থ খরচ করে ভূগর্ভস্থ নতুন খনি তৈরি করেছিল ডি বিয়ার্স। কিন্তু বাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা, গয়নার চাহিদা কমে যাওয়া এবং বিক্রি না হওয়া বিপুল হিরের মজুতের কারণে আপাতত সেই প্রকল্পের গতি থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালের পর থেকেই প্রাকৃতিক হিরের ব্যবসায় টানা চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের উত্থান। দেখতে, গঠন এবং গুণমানে প্রায় একই হলেও কৃত্রিম হিরের দাম প্রাকৃতিক হিরের তুলনায় অনেক কম। ফলে ক্রেতাদের বড় অংশ এখন সস্তা বিকল্পের দিকেই ঝুঁকছেন।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে উৎপাদন বাড়ানোর বদলে বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যয় কমানোর কৌশল নিয়েছে ডি বিয়ার্স। তবে এর জেরে ভেনেটিয়া খনির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪,০০০ কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একসময় “A Diamond is Forever” স্লোগানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হিরের প্রতি আবেগ তৈরি করেছিল ডি বিয়ার্স। কিন্তু সেই বাজারই এখন বদলে যাচ্ছে। সংস্থার মূল মালিক ব্রিটিশ খনিসংস্থা অ্যাংলো আমেরিকান ইতিমধ্যেই তামার মতো ভবিষ্যৎমুখী খনিজ ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা, ভবিষ্যতে তারা ডি বিয়ার্সের ব্যবসা বিক্রির পথেও হাঁটতে পারে।

যদিও উৎপাদন বন্ধ থাকলেও এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ভেনেটিয়া খনির পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। বাজারে চাহিদা ফিরলে আরও বেশি উৎপাদনক্ষমতা নিয়ে ফেরার লক্ষ্য তাদের।

বিশ্বের অন্যতম বড় হিরের বাজার চিনেও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ক্রেতাই এখন বিলাসবহুল হিরের গয়নার বদলে সোনা বা অন্যান্য নিরাপদ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে প্রাকৃতিক হিরের বিক্রি আরও কমেছে।

ভারতেও একই ছবি। গুজরাতের সুরত, যেখানে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ হিরে কাটা ও পালিশের কাজ হয়, সেখানকার শিল্পও চাপে। রফতানি কমেছে, বিপুল পরিমাণ পালিশ করা হিরে গুদামে জমে রয়েছে এবং বহু কর্মসংস্থানও অনিশ্চয়তার মুখে।

শিল্পমহলের মতে, আগামী কয়েক বছরে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম— এই দুই ধরনের হিরেই বাজারে থাকবে। তবে কম দামের ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের জনপ্রিয়তা যত বাড়বে, প্রাকৃতিক হিরের বাজারে প্রতিযোগিতা ততই কঠিন হয়ে উঠবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *