কূটনীতির দোলাচলে কাতার: সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে আজ দুই দিক থেকেই চাপে ধনী আরব দেশ

সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে আজ দুই দিক থেকেই চাপে ধনী আরব দেশ! পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে এখন অন্যতম কাতার। একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও…

June 15, 2026
1 min read

সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে আজ দুই দিক থেকেই চাপে ধনী আরব দেশ!

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে এখন অন্যতম কাতার। একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা, অন্যদিকে মার্কিন মিত্র হওয়ার কারণে ইজ়রায়েল-সংক্রান্ত জটিলতা— দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে দোহার উপর।

বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন দশক ধরে কাতার এমন একটি বিদেশনীতি অনুসরণ করেছে, যেখানে তারা একই সঙ্গে আমেরিকা, ইরান, তালিবান, হামাস এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এই নীতির ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কাতারের গুরুত্ব যেমন বেড়েছিল, তেমনই বর্তমান সংঘাতের সময়ে সেই কৌশলই তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছোট্ট এই উপসাগরীয় দেশটির ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসে প্রাকৃতিক সম্পদের আবিষ্কারের পর। প্রথমে তেল এবং পরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস ভান্ডারের মালিক হয়ে কাতার দ্রুত বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলির তালিকায় জায়গা করে নেয়। অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে শুরু করে।

১৯৯০-এর দশকে ক্ষমতায় আসা হামাদ বিন খলিফা আল-থানির আমলে কাতারের কূটনীতি নতুন মাত্রা পায়। মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য আল উদেইদ বিমানঘাঁটি তৈরি করা হয়, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়। একই সময়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।

এর ফলে এক অদ্ভুত ভারসাম্য তৈরি হয়। একদিকে কাতারে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, অন্যদিকে হামাস, তালিবান কিংবা ইরানের মতো গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে তালিবানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল কাতারই। একই ভাবে গাজ়া ইস্যুতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কিন্তু ২০২৩ সালের পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। হামাসের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের পর কাতারের অবস্থান ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে। হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে ইজ়রায়েলের অসন্তোষ বাড়ে। আবার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কাতারের মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় তেহরানেরও সন্দেহের নজর পড়ে তাদের উপর।

বর্তমান সংঘাতে সেই দ্বৈত অবস্থানের ফল ভোগ করতে হচ্ছে কাতারকে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠেছে মার্কিন ঘাঁটি এবং কৌশলগত অবকাঠামো। একই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে কাতারের গ্যাস রফতানিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ হওয়া সত্ত্বেও আজ কাতার এমন এক পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে কোনও পক্ষকেই পুরোপুরি অসন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। বহু বছর ধরে ‘সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক’ বজায় রাখার যে কৌশল তাদের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এনে দিয়েছিল, বর্তমান সংকটে সেই কৌশলই সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে উঠেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই— কাতার কি মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর পথে হাঁটবে, নাকি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আরও গভীরে জড়িয়ে পড়বে? তার উত্তর সময়ই দেবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *