কিশোর প্রেম আর ‘অপরাধ’ নয়? নতুন আইনে বড় বদলের পথে নেপাল

কিশোর প্রেম আর ‘অপরাধ’ নয়? কিশোর-কিশোরীদের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা প্রেম বা শারীরিক সম্পর্ককে আর সরাসরি ‘ধর্ষণ’ হিসেবে দেখতে চাইছে না নেপাল। দেশের ফৌজদারি আইনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।…

May 23, 2026
1 min read

কিশোর প্রেম আর ‘অপরাধ’ নয়?

কিশোর-কিশোরীদের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা প্রেম বা শারীরিক সম্পর্ককে আর সরাসরি ‘ধর্ষণ’ হিসেবে দেখতে চাইছে না নেপাল। দেশের ফৌজদারি আইনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন ধারার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোমিও-জুলিয়েট ক্লজ’।

বর্তমানে নেপালের আইনে ১৮ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে যে কোনও ধরনের যৌনসম্পর্ককে ধর্ষণ বলে ধরা হয়। সেখানে দু’জনের সম্মতি থাকলেও তা আইনের চোখে বৈধ নয়। ফলে বহু ক্ষেত্রে কিশোর প্রেমিকদের জেলে যেতে হয়েছে, যদিও সম্পর্কটি ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়।

এই পরিস্থিতি বদলাতেই নতুন আইন আনার ভাবনা শুরু হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ-এর সরকার মনে করছে, সমবয়সি কিশোর-কিশোরীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে অপরাধের পর্যায়ে ফেলা বাস্তবসম্মত নয়।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি সম্পর্কের দুই পক্ষের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হয় এবং বয়সের পার্থক্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে, তবে সেই সম্পর্ককে আর ‘ধর্ষণ’ হিসেবে দেখা হবে না। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও থাকছে— সম্পর্কটি সম্পূর্ণ সম্মতিসূচক হতে হবে।

জোরজবরদস্তি, ভয় দেখানো, ব্ল্যাকমেল, আর্থিক বা সামাজিক চাপ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার থাকলে সেই ক্ষেত্রে আইন আগের মতোই কঠোর থাকবে। অর্থাৎ, এই আইন কোনও ভাবেই শোষণকে প্রশ্রয় দেবে না।

নেপালের আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান আইনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল— পরিবারগুলি অনেক সময় সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ধর্ষণের মামলা দায়ের করে। বিশেষ করে আন্তঃবর্ণ প্রেমের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা বেশি ঘটে। ফলে পারস্পরিক সম্পর্কও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে যায়।

সরকারি টাস্ক ফোর্সের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিদ্যমান আইন কিশোরদের সুরক্ষা দেওয়ার বদলে অনেক সময় তাদের জীবনকেই বিপর্যস্ত করে তুলছে। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মাথায় রেখে নতুন খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের শিশু অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশিকাও এই ধরনের ‘রোমিও-জুলিয়েট’ আইনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ছাড়ের কথা বলে। নেপালও সেই পথেই হাঁটছে।

তবে একটি বিষয় সরকার স্পষ্ট করেছে— কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি নাবালক বা নাবালিকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তা হলে সেই অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় থাকবে না। সেখানে সম্মতির যুক্তিও গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই আইনি পরিবর্তনের পাশাপাশি নেপালে বৈধ বিয়ের বয়স ২০ থেকে কমিয়ে ১৮ করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। কারণ বর্তমানে দেশে সাবালক হওয়ার বয়স ১৮ হলেও বিয়ের বৈধ বয়স ২০, যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

নতুন আইন কার্যকর হলে নেপালের কিশোর-কিশোরীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আইনি অবস্থানে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *