‘কালীঘাটের কাকু’র অসুস্থতা: প্রেসিডেন্সি জেল থেকে হাসপাতালে ভর্তি

সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’, যিনি নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রেসিডেন্সি জেল থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। সোমবার সকালে জেল সূত্রে জানা যায়, হৃদ্‌যন্ত্রের…

December 30, 2024
0 min read

সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’, যিনি নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রেসিডেন্সি জেল থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। সোমবার সকালে জেল সূত্রে জানা যায়, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার কারণে হঠাৎ সংজ্ঞা হারান তিনি।

জেল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর

সোমবার সকালে প্রেসিডেন্সি জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন ‘কাকু’। দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সেই অসুস্থতার কারণেই সংজ্ঞা হারান বলে মনে করা হচ্ছে। দ্রুত তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ‘কাকু’ দীর্ঘদিন ধরে জেল হেফাজতে ছিলেন। মামলার শুনানি চলাকালীন অসুস্থতার কারণে তিনি বহুবার সশরীরে হাজিরা দিতে পারেননি। এমনকি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বারবার তাঁর শারীরিক অসুস্থতার জন্য সিবিআই হেফাজতের সময়সীমা বাড়ানো হয়।

আদালতে মামলার অগ্রগতি

‘কালীঘাটের কাকু’ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলির একজন। ইডি এবং সিবিআইয়ের তরফে তদন্ত চলছে, এবং এই মামলায় প্রাথমিক চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবারই আদালতে এই মামলার শুনানি ছিল। তবে, অসুস্থতার কারণে তাঁর আদালতে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তাঁর আইনজীবী সোমনাথ সান্যাল আদালতে আবেদন করেছেন যে, ‘কাকু’কে আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হোক। এর আগেও ওই হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসা হয়েছিল।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা

‘কাকু’র দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে। প্রেসিডেন্সি জেলে থাকা অবস্থাতেও তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জেলের চিকিৎসাকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এর মধ্যেই তিনি আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতে পারেননি অসুস্থতার কারণে।

তবে, চার্জ গঠনের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এরপর আবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

জেলের জীবন এবং মামলার প্রেক্ষাপট

সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ইডি গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তের জন্য সিবিআই তাঁকে হেফাজতে নেয়। কিছুদিন আগে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়, কিন্তু সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আবার প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানো হয়।

‘কালীঘাটের কাকু’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। তাঁর অসুস্থতা এবং আদালতের শুনানি পেছানোর বিষয়গুলি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

চিকিৎসা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ

এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরের পর, তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। চিকিৎসকরা তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। ‘কাকু’র আইনজীবী এবং পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো প্রয়োজন হতে পারে।

এই ঘটনার পর নিয়োগ দুর্নীতির মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। মামলার শুনানি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া কতটা এগোবে, তা এখন ‘কাকু’র শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করছে।

‘কালীঘাটের কাকু’র এই অসুস্থতার ঘটনা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নয়, নিয়োগ দুর্নীতির মামলার বিচার প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *