কাম্বলিকে সতর্ক করেছিলেন যোগরাজ, জবাবে শুনতে হয়েছিল— “আপনার সময় ফুরিয়েছে”

কাম্বলিকে সতর্ক করেছিলেন যোগরাজ! কিছু সময় এমন হয়, যখন সতর্কবার্তাও হয়ে ওঠে অবহেলার শিকার। ক্রিকেট বিশ্বে এক সময় প্রতিভার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন বিনোদ কাম্বলি। কিন্তু জীবনযাপনের অনিয়ম, আসক্তি আর চেনা পথ…

June 12, 2025
0 min read

কাম্বলিকে সতর্ক করেছিলেন যোগরাজ!

কিছু সময় এমন হয়, যখন সতর্কবার্তাও হয়ে ওঠে অবহেলার শিকার। ক্রিকেট বিশ্বে এক সময় প্রতিভার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন বিনোদ কাম্বলি। কিন্তু জীবনযাপনের অনিয়ম, আসক্তি আর চেনা পথ থেকে বিচ্যুতি তাঁকে এমন এক প্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে ‘দয়া’ নয়, দরকার ছিল সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই তাঁকে সুস্থ জীবনে ফেরার পরামর্শ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন যুবরাজ সিংহের বাবা ও প্রাক্তন ক্রিকেটার যোগরাজ সিংহ। কিন্তু যোগরাজের সতর্কবার্তায় কাম্বলির ছিল স্পষ্ট অবজ্ঞা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যোগরাজ জানান, “আমি ওকে পরিষ্কার বলেছিলাম— পার্টি, মদ্যপান, সিগারেট, নারীসঙ্গ বন্ধ করো। না হলে তুমি শেষ হয়ে যাবে।” তাঁর মতে, কাম্বলি তখনই সঠিক পথ ধরলে হয়তো আজ এতটা দুঃস্থ দশায় পড়তেন না।

কিন্তু কাম্বলির প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
যোগরাজ বলেন, “ও তখন আমায় বলেছিল, ‘স্যর, আপনার সময় শেষ হয়ে গেছে।’ আমি শুনে হতবাক! একজন প্রাক্তন খেলোয়াড়, যিনি খারাপ সময়ের অভিজ্ঞতা জানেন, তিনি যখন কাউকে সত্যি কথা বলেন, তখন যদি তাকে এমন উত্তর শুনতে হয়, সেটা শুধু দুঃখজনক নয়, হতাশাজনকও।”

এক সময় সচিন তেন্ডুলকরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত কাম্বলি, যাঁর ব্যাটিং গড় ভারতের পক্ষে অভিষেকের পর প্রথম কয়েক বছরে ছিল ঈর্ষণীয়, তিনিই আজ বিচ্যুত জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন।

কয়েক মাস আগের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর দুর্বল শারীরিক অবস্থা দেখে চমকে যান অনুরাগীরা। ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছেন না, কথাও বলতে কষ্ট হচ্ছে। এরপরই আবার আলোচনায় আসেন কাম্বলি। জানা যায়, তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসা, আর্থিক সমস্যা— সব মিলিয়ে সময়টা কঠিন যাচ্ছে তাঁর।

সচিন তেন্ডুলকর বহুবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাহায্য করেছেন অর্থ, চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে। কিন্তু কাম্বলির পক্ষ থেকে সেই সাহায্যের পূর্ণ সদ্ব্যবহার হয়নি। বারবার অস্বীকার করেছেন প্রক্রিয়াকে, হয়তো আত্মবিশ্বাস বা অহংয়ের কারণে।

যোগরাজের মতে, “কাম্বলি নিজেকে ‘রাজা’ ভাবতেন, কিন্তু বুঝতেই পারেননি যে, ক্রিকেটই আসল রাজা। এর বাইরে ব্যক্তিগত গৌরবের কোনও মানে হয় না।”

আজ, ৫২ বছর বয়সে কাম্বলি হয়তো বোঝার চেষ্টা করছেন জীবনের ভুলগুলো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— এত দেরি করে এই উপলব্ধি কতটা কার্যকর?

এ গল্প শুধু কাম্বলির নয়—এ এক শিক্ষা, যেখানে সময় থাকতে সঠিক পথ বেছে নেওয়া জরুরি। কারণ, দ্বিতীয় সুযোগ সবাই পায় না।

চল্লিশের পর ফিটনেস মানে শুধু ঘাম নয়, সচেতনতা! লিসা রে জানালেন কোন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকবেন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *