কাঠমান্ডু থেকে কলকাতা, গন্তব্য বাংলাদেশ!
নেপাল থেকে ভারতে ঢুকেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম। কলকাতায় আসার পর তাঁর গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। পেট্রাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বেনাপোলে যাওয়ার প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই হাবড়া থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হন রউফ।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রউফের বাংলাদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা এবং সীমান্তের ওপারে তাঁর এক সহযোগীর উপস্থিতির কথা সামনে এসেছে। পাভেল নামে এক ব্যক্তি বেনাপোলে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য মিলেছে। সীমান্ত পারাপারের জন্য দালালদের সঙ্গেও রউফ যোগাযোগ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, কাঠমান্ডু থেকে বিহারের রক্সৌল হয়ে কলকাতায় এসেছিলেন রউফ। কলকাতায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং তপসিয়া এলাকায় থাকতেন। গ্রেফতারের সময় নিজেকে ওয়াহাব আলম এবং তপসিয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশ তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানতে পারে। তদন্তকারীদের অনুমান, বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে যাওয়াই ছিল কলকাতায় আসার অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে কোনও মডিউল তৈরির পরিকল্পনা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসটিএফের হাতে রউফের পাকিস্তানি পাসপোর্টের তথ্যও এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিজের আধার এবং ভোটার কার্ডের প্রতিলিপি দেখিয়েছিলেন তিনি। পরে যাচাই করে দেখা যায়, তাঁর দেখানো ভোটার কার্ডের নাম ২০২৬ সালের এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে। এর পরেই পাকিস্তানি পাসপোর্টের তথ্যের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে তদন্তকারীরা আরও নিশ্চিত হন।
রউফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা আরও কয়েক জনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁদের মধ্যে ‘জেডি’ নামে এক ব্যক্তির কথাও জানা গিয়েছে। এই নামটি কোনও বড় নামের সংক্ষিপ্ত রূপ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, বাংলাদেশ যাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাওয়ার পর নিজের মোবাইল ফোন নষ্ট করে দেন রউফ। তবে গ্রেফতারের সময় তাঁর ব্যাগ থেকে একটি নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। সেখানে একাধিক ফোন নম্বর লেখা ছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই নম্বরগুলির মধ্যে নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের নম্বরও রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে দু’টি সিম কার্ড উদ্ধার হলেও কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট পাওয়া যায়নি।
রউফকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ইজাজ তপসিয়ার বাসিন্দা এবং একাধিক বার কাঠমান্ডু গিয়েছিলেন। প্রাথমিক ভাবে তাঁকে রউফের সহযোগী বা ‘শাগরেদ’ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
রউফের গ্রেফতারির পর এখন তদন্তকারীদের নজর সীমান্তের ওপারে। বেনাপোলে তাঁর জন্য অপেক্ষা করা পাভেল কে, তাঁর সঙ্গে রউফের সম্পর্ক কী এবং বাংলাদেশে যাওয়ার পরে ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল— সেই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।