কলকাতা লিগেও নেই ডায়মন্ড হারবার!
বাংলার ফুটবলের নতুন মরসুম শুরু হতেই একের পর এক চমক সামনে আসছে। ডুরান্ড কাপে সুযোগ না পাওয়ার পর এ বার কলকাতা ফুটবল লিগ থেকেও বাদ পড়ল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাব ডায়মন্ড হারবার এফসি। একই সঙ্গে এ বারের লিগে নেই প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ক্লাব শ্রীভূমি স্পোর্টিংও। তবে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ক্লাব সুরুচি সঙ্ঘ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
রবিবার থেকেই শুরু হয়েছে কলকাতা লিগের নতুন মরসুম। উদ্বোধনী ম্যাচে জর্জ টেলিগ্রাফকে হারিয়ে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সূচিতে নেই গত মরসুমের অন্যতম আলোচিত দল ডায়মন্ড হারবার এফসি, যা স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলমহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এই বিষয়ে ভারতীয় ফুটবল সংস্থার পশ্চিমবঙ্গ শাখা (আইএফএ)-র সভাপতি অনির্বাণ দত্ত জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডায়মন্ড হারবার এবং শ্রীভূমি— কোনও ক্লাবই অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। আইএফএ তাদের চিঠি পাঠিয়ে ৩০ জুনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছিল। কিন্তু কোনও উত্তর না পাওয়ায় দুই ক্লাবকে বাদ দিয়েই লিগের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অনির্বাণের কথায়, ক্লাব দু’টির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় নতুন করে গ্রুপ বিন্যাস করতে হয়েছে। লটারির মাধ্যমে গ্রুপ পুনর্গঠন করে প্রতিযোগিতা শুরু করা হয়েছে। অন্য দিকে, সুরুচি সঙ্ঘ সময়মতো অংশগ্রহণ নিশ্চিত করায় তারা এ বারের কলকাতা লিগে খেলছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা শুরু করতে সহযোগিতার জন্য তিনি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ডায়মন্ড হারবার এফসির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্লাবের আর্থিক লেনদেন, গঠনপ্রণালী এবং পরিচালনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এখনও পর্যন্ত দল পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনও শুরু করতে পারেনি। গত মরসুমের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারও ক্লাব ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন।
যদিও গত মরসুমে আইএফএ লিগ জিতে আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ডায়মন্ড হারবার, সেই অংশগ্রহণ নিয়েও এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্লাবের প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলায় ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
কিছুদিন আগেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছিলেন, ডায়মন্ড হারবার ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সরকারের কাছে এসেছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ক্লাবের গঠন প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, প্রয়োজন হলে ক্লাবের স্পনসরদেরও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে, যাতে অর্থের উৎস এবং ব্যয়ের খতিয়ান খতিয়ে দেখা যায়।
এ ছাড়াও বিধাননগর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ডায়মন্ড হারবারের অনুশীলনের মাঠ দখল করে রাখার অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। প্রশাসনের দাবি, সেই জায়গা ইতিমধ্যেই দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, নতুন মরসুম শুরু হওয়ার আগেই বাংলার ফুটবলে ডায়মন্ড হারবার এফসি-কে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন নজর প্রশাসনিক তদন্ত ও ক্লাবের ভবিষ্যতের দিকেও।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?