কর্মরত শিক্ষকদের টেট নিয়ে ধোঁয়াশা
প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরের কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টেট নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হতেই একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুক্রবার টেট সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কারা পরীক্ষায় বসবেন, কাদের টেট দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং পুরনো নিয়মে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত কী ভাবে কার্যকর হবে—এই বিষয়গুলিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্কুলশিক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে টেট আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ জানতে চেয়েছে। কিন্তু নির্দেশিকা প্রকাশের পরেও কর্মরত শিক্ষকদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে পরীক্ষার স্তর ও যোগ্যতা নিয়ে স্পষ্টতা মেলেনি।
বিশেষ করে ২০১১ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের নিয়েই জটিলতা বেশি। সেই সময় টেট ব্যবস্থা চালু হয়নি। লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক নিয়োগ হত। স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াতে পারতেন। তখন বর্তমানের মতো উচ্চপ্রাথমিক এবং নবম-দশম স্তরের বিভাজনও ছিল না।
শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর দাবি, পুরনো ব্যবস্থায় চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের অনেকেই এখন কোন স্তরের টেটের আওতায় পড়বেন, তা স্পষ্ট নয়। ২০১৬ সালের পর উচ্চপ্রাথমিক এবং নবম-দশমের মধ্যে পৃথকীকরণ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
সমস্যা আরও বাড়ছে কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে। বর্তমানে প্রাথমিক টেটের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসাবে দ্বাদশে ৫০ শতাংশ নম্বর এবং উচ্চপ্রাথমিকের ক্ষেত্রে স্নাতকে ৫০ শতাংশ নম্বরের শর্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। কিন্তু বহু শিক্ষক বহু বছর আগে পুরনো নিয়মে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা বর্তমানের এই মানদণ্ডের সঙ্গে মিলছে না।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান যোগ্যতা পূরণ করতে না পারলে ওই শিক্ষকেরা টেটেই বা কী ভাবে বসবেন? আর পরীক্ষায় বসার সুযোগ না পেলে তাঁদের চাকরির ভবিষ্যৎ কী হবে?
আরও একটি বাস্তব সমস্যা সামনে এসেছে। শিক্ষক-সংকটের কারণে অনেক সময় নবম-দশম বা একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষককে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্লাসও নিতে হয়। আবার কেউ একই সঙ্গে উচ্চপ্রাথমিক ও নবম-দশমের ক্লাস নেন। ফলে তাঁদের কোন স্তরের শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার এক শিক্ষক জানিয়েছেন, তিনি বহু বছর আগে চাকরিতে যোগ দিয়ে বর্তমানে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ান। তাঁর প্রশ্ন, একই শিক্ষককে একাধিক স্তরে ক্লাস নিতে হলে টেটের ক্ষেত্রে তাঁর শ্রেণিবিন্যাস কী হবে?
পশ্চিম মেদিনীপুরের এক শিক্ষকেরও একই অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, পুরনো নিয়মে নিয়োগের পর এখন নতুন করে যোগ্যতার পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকদের একাংশ ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার আবেদন জানিয়েছেন। অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াইও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্য দিকে, বিজেপি শিক্ষক সেলের পিন্টু পাড়ুই দাবি করেছেন, কোনও শিক্ষকের চাকরি যাবে না। তবে এই বিষয়ে সরকারি ভাবে এখনও বিস্তারিত অবস্থান স্পষ্ট হয়নি। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে টেটের দিন ঘোষণার আগেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—পুরনো নিয়মে নিয়োগ পাওয়া কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নতুন টেটের যোগ্যতা কী ভাবে কার্যকর হবে এবং পরীক্ষায় বসার সুযোগ না পাওয়া শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না আসা পর্যন্ত উদ্বেগ কাটছে না শিক্ষকদের একাংশের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।