‘কর্টিসল ককটেল’ কি সত্যিই মানসিক চাপ কমায়?
সারাদিনের কাজের চাপ, অনিদ্রা, উদ্বেগ বা মানসিক ক্লান্তিতে অনেক সময়ই মনে হয় যেন আর কিছুই সামলানো সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে একটি পানীয়— ‘কর্টিসল ককটেল’। দাবি করা হচ্ছে, এই পানীয় নাকি শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে শান্ত রাখে। কিন্তু সত্যিই কি এমন কোনও জাদু আছে এতে?
কর্টিসল হল শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রেস হরমোন, যা চাপের পরিস্থিতিতে শরীরকে সাড়া দিতে সাহায্য করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কর্টিসল নিঃসরণ হলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, স্থূলতা, অনিদ্রা, হৃদ্রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এই হরমোনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহও কম নয়।
কী থাকে ‘কর্টিসল ককটেল’-এ?
এই পানীয়টি সাধারণত তৈরি করা হয়—
- ২০০ মিলিলিটার ডাবের জল
- অর্ধেক লেবুর রস
- ৫০ মিলিলিটার কমলালেবুর রস
- ১ চা-চামচ ম্যাগনেশিয়াম পাউডার
- স্বাদমতো নুন
- প্রয়োজনমতো স্পার্কলিং ওয়াটার
এই উপাদানগুলির কারণে পানীয়টি ইলেক্ট্রোলাইটে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। ডাবের জল শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, লেবু ও কমলালেবুর রস থেকে পাওয়া যায় ভিটামিন সি, আর নুন ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সত্যিই কি মানসিক চাপ কমায়?
এই পানীয় শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করতে, ক্লান্তি কাটাতে এবং ব্যায়ামের পর ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে উপকারী হতে পারে। অনেকেই এটি খাওয়ার পর নিজেকে কিছুটা সতেজ ও স্বস্তিতে অনুভব করেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে এটি সরাসরি কর্টিসলের মাত্রা কমিয়ে দেয় বা উদ্বেগ, মানসিক চাপ কিংবা অনিদ্রার চিকিৎসা করতে পারে।
এখনও পর্যন্ত এমন কোনও শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, যা বলছে এই পানীয় একাই কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। মানসিক চাপ কমাতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য, ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তাই ‘কর্টিসল ককটেল’কে অলৌকিক সমাধান না ভেবে একটি সতেজ, অ্যালকোহলমুক্ত ও ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় হিসেবেই দেখা ভালো। এটি শরীরকে চাঙা রাখতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা কর্টিসলজনিত সমস্যার চিকিৎসার বিকল্প নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?