মৃতদের পরিবারকে সরকারি চাকরির সিদ্ধান্ত বাতিল করল মাদ্রাজ হাই কোর্ট!
তামিলনাড়ুর করুরে পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা খেল মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নেতৃত্বাধীন সরকার। সোমবার মাদ্রাজ হাই কোর্ট এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি চাকরি দেওয়ার এমন ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবিধানের ১৪ ও ১৬ নম্বর ধারার পরিপন্থী। ১৪ নম্বর ধারায় আইনের চোখে সকলের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে, আর ১৬ নম্বর ধারায় সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। আদালতের মতে, এই নীতির বাইরে গিয়ে নির্দিষ্ট একটি ঘটনার ভিত্তিতে চাকরি প্রদান সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন করুরে তমিলগা বেট্ট্রি কড়গম (টিভিকে)-এর একটি জনসভায় প্রায় ৩০ হাজার সমর্থকের ভিড় জমেছিল। সেই সমাবেশেই হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
তৎকালীন তদন্তে পুলিশ অভিযোগ করেছিল, বিজয় নির্ধারিত সময়ের পরে সভাস্থলে পৌঁছনোর ফলে ভিড় আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পাশাপাশি অনুষ্ঠান পরিচালনায় একাধিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে টিভিকে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। দলের দাবি ছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিল পুলিশ প্রশাসন।
পরবর্তীতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। শীর্ষ আদালত নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। তদন্তের অংশ হিসেবে টিভিকে-র সদর দফতরে তল্লাশি চালানো হয় এবং বিজয়কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই দফতরে ডাকা হয়েছিল।
এরই মধ্যে তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় আসার পর চলতি মাসের শুরুতে করুর দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের ৩২ জন সদস্যের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সরকারের দাবি ছিল, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে হাই কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে সেই সিদ্ধান্ত কার্যত বাতিল হয়ে গেল। আদালতের এই নির্দেশের ফলে বিজয় সরকারের পুনর্বাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?