কমনওয়েলথ থেকে ফের ‘উধাও’ পাক বক্সার!
বিদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা খেলতে গিয়ে পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এ বার সেই তালিকায় নাম উঠল ২০ বছর বয়সি বক্সার কুদরতুল্লা খানের। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি তিনি। সবচেয়ে বড় রহস্য, তাঁর পাসপোর্টও ছিল দলের ম্যানেজারের কাছে।
কোথায় গেলেন কুদরতুল্লা?
চলতি বছরের কমনওয়েলথ গেমসের জন্য পাকিস্তানের জাতীয় বক্সিং দলের সঙ্গে গ্লাসগো গিয়েছিলেন কুদরতুল্লা। ৬০ কেজি বিভাগে লড়াই করে দ্বিতীয় রাউন্ডে হেরে যান তিনি। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর গোটা দলের দেশে ফেরার কথা ছিল।
কিন্তু বিমান ধরার প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে হোটেল থেকে নিখোঁজ হয়ে যান কুদরতুল্লা। নির্দিষ্ট সময়ে দলের সদস্যদের হোটেলের লবিতে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দেখা যায়নি তাঁকে। কর্মকর্তারা ঘরে গিয়ে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি। রাত ২টো নাগাদ তাঁকে শেষ বার হোটেলে দেখা গিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পাসপোর্ট ছাড়াই ‘উধাও’!
কুদরতুল্লার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তাঁর পাসপোর্ট ঘিরে। সেটি দলের ম্যানেজারের কাছেই জমা ছিল। ফলে পাসপোর্ট সঙ্গে না নিয়েই কী ভাবে তিনি হোটেল ছেড়ে গেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। গ্লাসগো পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পাকিস্তান বক্সিং ফেডারেশনও কুদরতুল্লার সন্ধানে তৎপর হয়েছে।
বিদেশে গিয়ে কেন নিখোঁজ হন পাক ক্রীড়াবিদেরা?
কুদরতুল্লার ঘটনা একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা শেষে পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদদের দলের সঙ্গে দেশে না ফেরার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রাখার পরেও এই ধরনের ঘটনা ঠেকানো যায়নি।
২০২৪ সালে ইটালিতে ওয়ার্ল্ড অলিম্পিক্স বক্সিং কোয়ালিফায়ারে অংশ নিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন বক্সার জোহাইব রশিদ। পরে তিনি নিজেই জানান, তীব্র আর্থিক সঙ্কট এবং পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব তাঁকে দল ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমস থেকেও পাকিস্তানের দুই বক্সার সুলেমান বালোচ এবং নাজিরুল্লাহ খান নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট দলের ম্যানেজারের কাছে ছিল।
আর্থিক সঙ্কটই কি বড় কারণ?
বার বার এমন ঘটনা ঘটায় পাকিস্তানের ক্রীড়া ব্যবস্থার দিকে প্রশ্ন উঠছে। পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা, উন্নত প্রশিক্ষণ, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগের অভাব অনেক ক্রীড়াবিদকে হতাশ করে বলে মনে করা হয়।
বিশেষ করে বক্সিং, কুস্তির মতো ব্যক্তিগত খেলায় দলীয় খেলার তুলনায় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীর সংখ্যাও কম থাকে। ফলে বিদেশে গিয়ে খেলোয়াড়দের উপর নজরদারি তুলনামূলক ভাবে দুর্বল হতে পারে।
তবে কুদরতুল্লা কেন দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি, তার কোনও আনুষ্ঠানিক কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, তিনি ইংল্যান্ডে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। একই সময়ে উগান্ডার চার বক্সারও দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি বলে খবর। তাঁদের এক জন ইংল্যান্ডে আশ্রয় চাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কুদরতুল্লার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পাকিস্তানের ক্রীড়ায় বাড়ছে অস্বস্তি
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস শেষে পাকিস্তানের ৩৬ সদস্যের দল মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে দেশে ফিরেছে। মহিলা বক্সার ফাতিমা জেহরা সেই পদক জিতেছেন।
এর মধ্যেই জাতীয় দলের এক বক্সারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পাকিস্তানের ক্রীড়া প্রশাসনের উপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বার বার ঘটতে থাকলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদদের ভিসা এবং দল পরিচালনা নিয়েও আরও কড়াকড়ি হতে পারে।
কুদরতুল্লা শেষ পর্যন্ত কোথায় রয়েছেন, কেন দলের সঙ্গে দেশে ফিরলেন না এবং তিনি নিরাপদে আছেন কি না— আপাতত এই প্রশ্নগুলির উত্তরই খুঁজছেন পাকিস্তানি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।