ওএমআরে ৩৭০ নম্বরের ফারাক!!
ডাক্তারি প্রবেশিকা নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এখনও পুরোপুরি থামেনি। এরই মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল ও ওএমআর মূল্যায়ন নিয়ে নতুন অভিযোগ সামনে এল। হুগলির এক পরীক্ষার্থীর দাবি, তাঁর ওএমআর শিট এবং সংশ্লিষ্ট ‘আনসার কি’-র মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
মামলাকারী হুগলির ডানকুনির বাসিন্দা শ্রেয়া মহান্তি। তাঁর অভিযোগ, ২১ জুন অনুষ্ঠিত পুনঃনিট পরীক্ষায় প্রকাশিত ‘আনসার কি’ অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্ত নম্বর হওয়ার কথা ছিল ৬৫৯ থেকে ৬৬১। কিন্তু এনটিএ-র ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৮৯ নম্বর। অর্থাৎ, প্রায় ৩৭০ নম্বরের বিশাল ফারাক দেখা গিয়েছে। এই অসঙ্গতির জেরে তিনি ওএমআর পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বর্তমানে নিট পরীক্ষার মোট নম্বর ৭২০। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ৪ নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর কাটা হয়। প্রতিটি পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র ও ওএমআর সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী আলাদা হয় এবং সেই অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়। এনটিএ পরীক্ষার পরে সংশ্লিষ্ট সিরিজের ‘আনসার কি’ প্রকাশ করে এবং পরীক্ষার্থীদের ইমেলে ওএমআর শিট পাঠানো হয়। শ্রেয়ার দাবি, তাঁর ওএমআর এবং প্রকাশিত ‘আনসার কি’-র মধ্যে কোনও মিল নেই।
মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, ওএমআর মূল্যায়ন সম্পূর্ণ কম্পিউটার-নির্ভর প্রক্রিয়ায় হয়। সেই কারণে প্রায় ৩৭০ নম্বরের পার্থক্য শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ভুলে হওয়া সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে। তাই পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ওএমআর পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানানো হয়েছে।
বিচারপতি অমৃতা সিংহ মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশজুড়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া ও কাউন্সেলিং চলছে। তাই বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। আদালতের নির্দেশ, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এনটিএ-কে জানাতে হবে কী কারণে নম্বরের এমন বড় অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হয়েছিল। পরে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ১৬ জুলাই ফল প্রকাশিত হয়। সেই ফল ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওএমআর মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক রাজ্যের হাই কোর্টে ইতিমধ্যেই মামলা হয়েছে। এ বার সেই তালিকায় যোগ হল কলকাতা হাই কোর্টও।
মেডিক্যাল কাউন্সেলিং চলাকালীন এই মামলার নিষ্পত্তি কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?