হুমকির পরই গুলিতে ঝাঁঝরা আলিগড়ের শিক্ষক!
শীতের সন্ধ্যায় রোজকার মতোই হাঁটতে বেরিয়েছিলেন দানিশ রাও। সঙ্গে দু’জন পরিচিত। উত্তরপ্রদেশের Aligarh-এর ব্যস্ততা তখন ধীরে ধীরে থেমে আসছে। রাত সাড়ে আটটা পেরোতেই তাঁরা পৌঁছোন Aligarh Muslim University চত্বরে। ঠিক তখনই বাইকে চেপে এসে তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ায় দু’জন যুবক। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় সব কিছু।
প্রথমে অশ্রাব্য গালাগালি। তার পর এক জন এগিয়ে এসে হুমকি দেয়— “এত দিন আমাকে চিনিসনি। এ বার তোকে বোঝাব আমি কে!” কথাগুলো শেষ হওয়ার আগেই খুব কাছ থেকে, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে দানিশের মাথা লক্ষ্য করে পর পর তিন রাউন্ড গুলি। দু’টি গুলি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিক্ষক।
ঘটনাটি ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগারের কাছেই। আততায়ীরা মুহূর্তে বাইক ঘুরিয়ে চম্পট দেয়। দানিশের সঙ্গে থাকা দুই সঙ্গী তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। শান্ত শিক্ষানগরী মুহূর্তে আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে ছ’টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য— দু’টিই এখনও অজানা। ব্যক্তিগত শত্রুতা, পুরনো বিবাদ না কি অন্য কোনও গভীর কারণ— সব দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
দানিশ রাও ছিলেন এবিকে হাইস্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক। শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন টানা ১১ বছর। সহকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন শান্ত, ভদ্র এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধ একজন মানুষ হিসেবে। তাঁর পরিবারও শিক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। দানিশের দাদা একই স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং তিনি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত। দানিশের মা-ও এক সময় শিক্ষকতা করতেন। বুলন্দশহরের বাসিন্দা এই পরিবারের শিক্ষার ঐতিহ্য এলাকায় সুপরিচিত।
রাজনৈতিক যোগসূত্রও আছে পরিবারের। দানিশের শ্বশুর ছিলেন Indian National Congress-এর প্রাক্তন বিধায়ক। এই সব কারণেই খুনের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক সূত্র রয়েছে কি না, তা-ও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সূত্রের কথা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে প্রশ্নের শেষ নেই। প্রকাশ্যে, জনবহুল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কী ভাবে এমন হামলা সম্ভব হল? কেন একজন স্কুলশিক্ষককে এ ভাবে টার্গেট করা হল? দানিশ কি আগেও কোনও হুমকি পেয়েছিলেন? তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীরা শোকে স্তব্ধ।
একটি স্বাভাবিক সন্ধ্যার হাঁটা যে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, তা কেউ ভাবতেও পারেনি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সত্য সামনে আসবে বলেই আশাবাদী পুলিশ। কিন্তু দানিশ রাওয়ের পরিবার ও পরিচিতদের কাছে এই ক্ষতি আর কোনও দিনই পূরণ হওয়ার নয়।