এশিয়া কাপের দল ঘোষণা সামনে!
মঙ্গলবার ঘোষণা হবে ভারতের এশিয়া কাপের দল। ১৫ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেতে এখন লড়াইয়ে রয়েছেন প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটার। প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর ও কোচ গৌতম গম্ভীরের জন্য এ বারের নির্বাচন কার্যত এক বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বর্তমান ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে প্রতিটি বিভাগে এত বেশি বিকল্প যে কাকে নেওয়া আর কাকে বাদ দেওয়া হবে তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ওপেনিংয়ে জটিলতা
সাম্প্রতিক সিরিজে অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন ওপেন করে নজর কেড়েছেন। অভিষেক এখন বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষে। পাশাপাশি তাঁর বোলিংও কার্যকর। অন্যদিকে সঞ্জু শেষ ছ’টি ম্যাচে তিনটি শতরান করে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন। ফলে যশস্বী জয়সওয়ালকে প্রথম একাদশে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, যদিও তিনি দলে থাকবেন ব্যাকআপ হিসাবে।
প্রাক্তন নির্বাচক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য মনে করেন, অভিষেকের সঙ্গে যশস্বীকেই ওপেন করানো উচিত। আবার প্রণব রায়ের মতে, শুধু ব্যাটিং নয়, নির্বাচনের সময় খেলোয়াড়ের ফিল্ডিং দক্ষতা ও প্রতিপক্ষের শক্তি–সবকিছুই বিবেচনা করতে হবে।
মিডল অর্ডারে তীব্র প্রতিযোগিতা
এই জায়গাটিই সবচেয়ে জটিল। শুভমন গিল, সাই সুদর্শন, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব, শ্রেয়স আয়ার ও রিঙ্কু সিং— ছ’জনই এক ঝলমলে নাম। কিন্তু ১৫ জনের দলে একসঙ্গে সবাইকে রাখা সম্ভব নয়। সূর্যকুমার দলের অধিনায়ক এবং ফিটনেস টেস্ট উতরে গেছেন, তাই তাঁর জায়গা নিশ্চিত। তিলকও দুর্দান্ত ফর্মে, ফলে তাঁকেও বাদ দেওয়া কঠিন। তবে শুভমন ও সুদর্শন মূলত ওপেনার হওয়ায় এই স্কোয়াডে তাঁদের রাখা নাও হতে পারে। শ্রেয়স ও রিঙ্কুর ক্ষেত্রেও একই সমস্যা—নিয়মিত রান না থাকায় তাঁরা হয়তো পিছিয়ে থাকবেন।
উইকেটরক্ষকের সমীকরণ
প্রধান লড়াই চার জনের মধ্যে—ঋষভ পন্থ, লোকেশ রাহুল, সঞ্জু স্যামসন ও জিতেশ শর্মা। সাম্প্রতিক ফর্মে এগিয়ে জিতেশ, যিনি আইপিএলে দুর্দান্ত ফিনিশার হিসেবে পরিচিত। তবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে পন্থ ও রাহুল। সঞ্জু যদি ওপেন করেন তবে তিনি প্রথম পছন্দের উইকেটরক্ষক হবেন।
অলরাউন্ডারদের ভরসা
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের ভূমিকা অপরিসীম। হার্দিক পাণ্ড্য ও শিবম দুবে ব্যাট ও বল দু’দিকেই দলের ভরসা। পাশাপাশি অক্ষর পটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে ব্যাটিং গভীরতা বাড়ান। যদিও অক্ষরের ফিটনেস নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে, তবে ফিট থাকলে তাঁর জায়গা নিশ্চিত।
স্পিন বিভাগের চ্যালেঞ্জ
আমিরশাহির উইকেটে স্পিন কার্যকর হতে পারে। তাই দলে রাখা হবে অন্তত দু’জন বিশেষজ্ঞ স্পিনার। কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তী এগিয়ে রয়েছেন। তবে তাঁদের একসঙ্গে খেলানো কঠিন, কারণ তাঁরা ব্যাট হাতে কার্যকর নন। রবি বিশ্নোইও দৌড়ে আছেন, কিন্তু জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
পেস আক্রমণ
হার্দিক ও দুবের পাশাপাশি মূল ভরসা বুমরাহ। ফিটনেস নিয়ে সন্দেহ কেটে যাওয়ায় তাঁর থাকা একপ্রকার নিশ্চিত। অর্শদীপ সিং নতুন বলে ধারাবাহিক সাফল্য দিয়েছেন। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জায়গা প্রায় নিশ্চিত করেছেন। তবে সিরাজের মতো নামী বোলার হয়তো ছোট ফরম্যাটে বাদ পড়তে পারেন।
সব মিলিয়ে, আগামী মঙ্গলবার ঘোষিত হবে সেই প্রতীক্ষিত তালিকা। ২৫ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জনের স্বপ্ন পূরণ হবে। বাকিদের জন্য অপেক্ষা আরও দীর্ঘ। ভারতের সমৃদ্ধ ক্রিকেটভান্ডারে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনই নির্বাচকদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে উঠছে আরও কঠিন।
বাচ্চার পছন্দের বার্গার ও পিৎজ়া, তবে স্বাস্থ্যকর করে কেমন করে তুলবেন?