থাইল্যান্ডের তরুণীর অদ্ভুত বিয়ে ঘিরে চর্চা!
ভালোবাসা কখন, কীভাবে এবং কাকে ঘিরে তৈরি হবে— তা অনেক সময়ই নিয়মের গণ্ডিতে বাঁধা থাকে না। থাইল্যান্ডের এক তরুণীর জীবনকাহিনি এখন ঠিক সেই কারণেই আলোচনায়। এক সময় বিবাহবিচ্ছেদের পর সংসারের দায় কাঁধে তুলে নেওয়া এই নারী শেষ পর্যন্ত একই মণ্ডপে দুই প্রেমিককে বিয়ে করে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। আর সেই বিয়েতে পেয়েছেন বিপুল পরিমাণ যৌতুকও।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৩৭ বছর বয়সি ওই তরুণীর নাম দুয়াংদুয়ান কেটসারো। থাইল্যান্ডের বাসিন্দা দুয়াংদুয়ান আগে একবার বিয়ে করেছিলেন। সেই দাম্পত্যে তাঁর তিন সন্তান রয়েছে, এমনকি দুই নাতিও আছে। কিন্তু সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁকে সন্তানদের পাশাপাশি বাবা-মায়ের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছিল।
সংসারের খরচ মেটানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল। এক সময় গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও সেই পেশায় সেভাবে সফল হতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত জীবিকার জন্য পাটায়ার একটি পর্যটন সংস্থায় চাকরি নেন।
সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় অস্ট্রিয়ার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার রোমানের সঙ্গে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর তারপর প্রেম— ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক গভীর হয়। দু’জন প্রায় পাঁচ বছর একসঙ্গে থেকেছেনও।
কিন্তু এই সম্পর্ক চলাকালীনই জীবনে আসে নতুন মোড়। রোমানের সঙ্গে একত্রবাসে থাকার সময়ই আর এক ব্যক্তির প্রেমে পড়েন দুয়াংদুয়ান। দ্বিতীয় জনও অস্ট্রিয়ার বাসিন্দা— ম্যাকি নামে এক পুলিশ অফিসার। প্রথমে গোপনেই এই সম্পর্ক চলছিল। তবে কিছু দিন পরে দুয়াংদুয়ান সিদ্ধান্ত নেন সব কথা পরিষ্কার করে বলবেন।
তিনি রোমানকে জানিয়ে দেন যে তাঁর জীবনে আর একজন মানুষ এসেছে এবং তিনি একই সঙ্গে দু’টি সম্পর্ক বজায় রাখতে চান। আশ্চর্যের বিষয়, রোমান শুধু বিষয়টি মেনে নেনই না, ম্যাকিও এই পরিস্থিতিতে আপত্তি তোলেননি।
এরপর তিন জনের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়— দু’জনকেই বিয়ে করবেন দুয়াংদুয়ান। বিষয়টি তিনি নিজের পরিবার এবং সন্তানদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। তাঁরাও আপত্তি জানাননি।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে একই মণ্ডপে রোমান এবং ম্যাকি— দুই প্রেমিককেই বিয়ে করেন দুয়াংদুয়ান। বিয়ের সময় দুই বরই প্রতিশ্রুতি দেন যে তাঁরা মিলেই সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন এবং পরিবারের পাশে থাকবেন।
এই বিয়েতে আর একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে— যৌতুক। দুই বর মিলিয়ে দুয়াংদুয়ানকে মোট দশ লক্ষ থাই ভাট দেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮ লক্ষ টাকারও বেশি।
এই অস্বাভাবিক বিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন, এটি সাহসী সিদ্ধান্ত— সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার একটি উদাহরণ। আবার কেউ মনে করছেন, বিষয়টি বিতর্কিত এবং সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে।
যাই হোক, দুয়াংদুয়ানের জীবনের এই নতুন অধ্যায় নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। নিজের মতো করে সম্পর্ককে নতুন আকার দেওয়ার এই সিদ্ধান্তই তাঁকে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?