অক্ষয় খন্নার জায়গায় কী ভাবে এলেন আমির খান!
আজ অক্ষয় খন্না ফের আলোচনার কেন্দ্রে। ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে দিয়েছে— তিনি বরাবরই ছিলেন শক্তিশালী অভিনেতা, শুধু সুযোগটা সময়মতো আসেনি। কিন্তু বলিউডের অন্দরমহলে বহু দিন ধরেই একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায়— অক্ষয় কি আরও অনেক আগেই তারকা হয়ে উঠতে পারতেন? আর সেই পথে কি অজান্তেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আমির খান?
২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ফারহান আখতারের ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবির শুটিংয়েই আমির ও অক্ষয়ের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ছবিটি মুক্তির পর তিন বন্ধুর মধ্যে আমির খানই সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পান। অক্ষয় খন্নার অভিনয় প্রশংসিত হলেও তিনি যেন একটু আড়ালেই থেকে যান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়।
এর কয়েক বছর পরেই শুরু হয় ‘তারে জ়মিন পর’ ছবির ভাবনা। ছবির মূল গল্প ও চিত্রনাট্য লিখছিলেন অমোল গুপ্তে। সেই সময় শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন অক্ষয় খন্না। কিন্তু তখনকার দিনে অক্ষয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার মতো নম্বর অমোলের কাছে ছিল না।
এখানেই গল্পে প্রবেশ করেন আমির খান। অমোল তাঁর বন্ধু আমিরকে পুরো বিষয়টি জানান— গল্পের ভাবনা, চরিত্রের রূপরেখা, এমনকি পরিচালনা নিজেই করতে চান বলেও জানান। আমির মন দিয়ে চিত্রনাট্য শোনেন। গল্পটি তাঁর মনে ধরে যায়। কিন্তু অক্ষয়ের নম্বর দেওয়ার বদলে তিনি প্রশ্ন করেন— কেন অমোল অক্ষয়কেই ভাবছেন?
এরপরই ঘটে ঘটনাপ্রবাহের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বলিপাড়ার অন্দরের কথাবার্তা অনুযায়ী, আমির অমোলকে অনুরোধ করেন যেন শিক্ষক চরিত্রে তাঁকেই ভাবা হয়। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ছবিটি দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলবে। তাই এমন একটি প্রজেক্ট হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ছবিটি তৈরি হয়, তবে অক্ষয় খন্না নয়— শিক্ষক চরিত্রে দেখা যায় আমির খানকেই।
‘তারে জ়মিন পর’ মুক্তির পর তা শুধু বক্স অফিসেই সফল হয়নি, দর্শকের মনেও বিশেষ জায়গা করে নেয়। পরিচালক হিসেবেও আমির প্রশংসিত হন। অক্ষয়ের জীবনে যদিও সেই সুযোগ আর ফিরে আসেনি।
তবে এই ঘটনার আরেকটি দিকও রয়েছে। পরে এক সাক্ষাৎকারে আমির জানান, তিনি মনে করেছিলেন গল্পটি পরিচালনার জন্য অমোল তখনও প্রস্তুত নন। তাই তিনি চিত্রনাট্যটি অমোলের কাছ থেকে কিনে নেন এবং নিজেই ছবিটি পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, সিদ্ধান্তটি পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নেওয়া হয়েছিল।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ছবিটি মুক্তির পর আমির নিজেই অক্ষয়ের সঙ্গে দেখা করে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। অক্ষয় সবটা শুনেও ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। কোনও তিক্ততা দেখাননি বন্ধুর প্রতি।
বলিউডে এমন গল্প নতুন নয়— এখানে ভাগ্য, সময় আর সিদ্ধান্ত মিলেই তৈরি হয় তারকাখ্যাতির সমীকরণ। অক্ষয় খন্নার ক্ষেত্রেও হয়তো সময়টা একটু দেরিতে এল। কিন্তু আজকের অক্ষয় প্রমাণ করছেন, প্রকৃত প্রতিভা শেষ পর্যন্ত নিজের জায়গা খুঁজেই নেয়।