নেট বিভ্রাট থেকে ‘রোবট কেলেঙ্কারি’!
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন ঘিরে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা খুব দ্রুতই ঢেকে গেল বিতর্ক আর অস্বস্তিতে। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দুই বড়সড় ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের ক্ষমা চাইতে হয়েছে— প্রথমে প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা, তারপর রোবট নিয়ে চাঞ্চল্যকর বিতর্ক।
শুরুতেই প্রযুক্তির ‘হোঁচট’
ভারত মণ্ডপম-এ পাঁচ দিনের এই সম্মেলনকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই আয়োজন বলে দাবি করা হয়েছিল। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রথম দিনেই দেখা যায় বড়সড় সমস্যা— ঠিকমতো কাজ করছিল না ইন্টারনেট ও ওয়াই-ফাই।
ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে শুরু করে অনলাইন ডেমো— সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়েন অংশগ্রহণকারীরা। প্রযুক্তির শীর্ষ সম্মেলনে এমন পরিস্থিতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই ত্রুটির কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
দ্বিতীয় ধাক্কা: ‘আমাদের রোবট’ বিতর্ক
এই বিতর্ক থামতে না থামতেই সামনে আসে আরও বড় অস্বস্তিকর ঘটনা। গ্রেটার নয়ডার গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রদর্শনীতে একটি রোবট-কুকুর দেখায়, যার নাম দেওয়া হয় ‘ওরিয়ন’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি নেহা সিংহ দাবি করেছিলেন, এটি নাকি শত কোটি টাকার প্রকল্পে তৈরি তাঁদের নিজস্ব উদ্ভাবন। কিন্তু দ্রুতই সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে— রোবটটি আসলে চীনা কোম্পানির তৈরি একটি বাণিজ্যিক পণ্য।
এর পরেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। আয়োজকেরা ওই প্রদর্শনী সরিয়ে নিতে বলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্ষমা চাইতে হয়।
দায় চাপানো ও ব্যাখ্যা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরে বিবৃতি দিয়ে জানায়, প্রতিনিধি বিষয়টি পুরোপুরি জানতেন না এবং অনুমতি ছাড়াই ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। তাদের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও ভুয়ো দাবি করা হয়নি।
নেহা সিংহও বলেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও তথ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্বস্তি
একটি বিশ্বমানের প্রযুক্তি সম্মেলনে পরপর দুই বিতর্ক ভারতের ভাবমূর্তিতে প্রশ্ন তুলেছে বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। প্রথমে প্রযুক্তিগত অদক্ষতা, তারপর গবেষণা দাবি নিয়ে বিভ্রান্তি— এই দুই ঘটনায় সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সমালোচনা।
তবে আয়োজকদের বক্তব্য, ত্রুটিগুলি দ্রুত ঠিক করা হয়েছে এবং সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য— এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতা— এখনও অটুট রয়েছে।
বড় শিক্ষা
এই ঘটনাগুলি আবার মনে করিয়ে দিল— প্রযুক্তি বা গবেষণার আন্তর্জাতিক মঞ্চে শুধু উদ্ভাবন নয়, স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতিও সমান জরুরি। সামান্য অসতর্কতা বা ভুল তথ্যই মুহূর্তে বিশ্বজোড়া বিতর্ক ডেকে আনতে পারে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই