ইসরোর ‘জিস্যাট ২০’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ: ইলন মাস্কের স্পেস এক্স-এর সহযোগিতা

জিস্যাট ২০ ইসরোর অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ ‘জিস্যাট ২০’ সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে গেল। এটি ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উপগ্রহ, যা দেশজুড়ে উন্নত ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি। সোমবার মধ্যরাতে আমেরিকার…

November 19, 2024
1 min read

জিস্যাট ২০

ইসরোর অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ ‘জিস্যাট ২০’ সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে গেল। এটি ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উপগ্রহ, যা দেশজুড়ে উন্নত ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি। সোমবার মধ্যরাতে আমেরিকার ফ্লরিডা থেকে ইলন মাস্কের স্পেস এক্স-এর সাহায্যে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

উৎক্ষেপণের বিশদ বিবরণ


উপগ্রহটি পাঠানো হয় ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের মাধ্যমে, যা মহাকাশে পাড়ি দিতে মাত্র ৩৪ মিনিট সময় নিয়েছে। ৪,৭০০ কেজি ওজনের এই উপগ্রহটি তুলনামূলকভাবে অনেক ভারী, যা ইসরোর পূর্ববর্তী উৎক্ষেপণগুলো থেকে ভিন্ন। এই অতিরিক্ত ওজনের কারণেই ইসরো এবার স্পেস এক্স-এর সহযোগিতা নেয়।

বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি


‘জিস্যাট ২০’ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি। এছাড়া, মাঝ আকাশে বিমানের যাত্রীদের ইন্টারনেট পরিষেবা দেবে এটি। ইসরোর বাণিজ্যিক শাখা নিউ স্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণন দুরাইরাজ কেপ ক্যানাভেরাল থেকে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া তদারকি করেন। তিনি জানিয়েছেন, উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

এই কৃত্রিম উপগ্রহটি পরবর্তী ১৪ বছর ধরে কাজ করবে। ইসরো জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দেশে এর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

স্পেস এক্স-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ


ইসরো এবং ইলন মাস্কের স্পেস এক্স-এর এই যৌথ উদ্যোগ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এর আগে ইসরো এককভাবে বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। তবে ‘জিস্যাট ২০’-এর ওজন এবং বাণিজ্যিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এবার এই সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। এটি ইসরো ও স্পেস এক্স-এর মধ্যে প্রথম যৌথ উৎক্ষেপণ।

অবস্থান ও প্রক্রিয়া


‘জিস্যাট ২০’ আমেরিকার ফ্লরিডার কেপ ক্যানাভেরালের স্পেস কমপ্লেক্স ৪০ থেকে উৎক্ষেপিত হয়। এই অঞ্চলটি আমেরিকার মহাকাশ বাহিনীর আওতায় পরিচালিত এবং বর্তমানে স্পেস এক্স ব্যবহার করছে। বেঙ্গালুরুর ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার থেকে ইসরোর চেয়ারম্যান এস. সোমনাথ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখেন। তিনি জানিয়েছেন, মহাকাশে সফলভাবে পৌঁছে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে।

উপসংহার


ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এই উৎক্ষেপণ একটি বড় মাইলফলক। দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের পাশাপাশি এটি ইসরোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। ইলন মাস্কের স্পেস এক্স-এর সহযোগিতায় এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *