ইরানে ‘কোড ১০০’, কী এই বিশেষ সামরিক সতর্কতা? যুদ্ধের আশঙ্কায় কেন বাড়ল প্রস্তুতি

ইরানে ‘কোড ১০০’! পশ্চিম এশিয়ায় ফের বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কার আবহে তেহরান নাকি নিরাপত্তাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘কোড ১০০’ নামে একটি…

September 23, 2026
1 min read

ইরানে ‘কোড ১০০’!

পশ্চিম এশিয়ায় ফের বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কার আবহে তেহরান নাকি নিরাপত্তাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘কোড ১০০’ নামে একটি বিশেষ সামরিক প্রোটোকল জারি করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই প্রোটোকল নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি তথ্য সীমিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), ইরানি সেনাবাহিনীর আরতেশ, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, কোনও হামলা বা সামরিক অভিযান শুরু হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর মতো অবস্থায় বাহিনীকে রাখা।

‘কোড ১০০’-তে কী করা হয়?

প্রতিবেদনে ‘কোড ১০০’-কে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের সামরিক সতর্কতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই পর্যায়ে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদকে সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকেও বাড়তি নিরাপত্তার আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থানও বদলানো হতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০-এর পাশাপাশি ইরানের নিজস্ব খোরদাদ-১৫ এবং বাভার-৩৭৩ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখার কথাও বলা হয়েছে।

‘মোজ়াইক ডিফেন্স’ কী?

ইরানের সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গে ‘মোজ়াইক ডিফেন্স’ নামে একটি কৌশলের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মূল ধারণা হল, যুদ্ধের সময় কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও স্থানীয় সামরিক ইউনিটগুলি যেন নিজেদের মতো করে প্রতিরক্ষা চালিয়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ, তেহরানের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হলেও বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা আইআরজিসি কমান্ডারদের স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাল্টা হামলা বা অন্যান্য সামরিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

পারমাণবিক কেন্দ্র ঘিরেও বাড়তি নিরাপত্তা

নাতান্‌জ়, ফোরডো এবং ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়ানোর কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জিপিএস সিগনাল ব্যাহত করা, ড্রোনের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্য আকাশ হামলা ঠেকানোর জন্য বাড়তি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে।

এই পরিস্থিতির পিছনে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক হামলা এবং ইরান-আমেরিকা উত্তেজনাকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করেছে।

অন্য দিকে, ওয়াশিংটন থেকেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চলে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করার পরামর্শ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনের শেষ অংশে।

সব মিলিয়ে ‘কোড ১০০’ ঘিরে যে ছবি উঠে আসছে, তা মূলত সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য ইরানের সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর। তবে এর অর্থ অবিলম্বে বড় যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *