ইয়ামাল-পেদ্রিদের কাঁধে স্পেনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন
২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে স্পেনের ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না। প্রতি বিশ্বকাপের আগে স্পেনকে অন্যতম ফেভারিট বলা হলেও বাস্তবে গত তিনটি আসরেই শেষ ষোলো পেরোতে পারেনি তারা। তবে এবার ছবিটা কিছুটা আলাদা। তরুণ প্রতিভা, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং সাম্প্রতিক সাফল্য নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে স্প্যানিশ সমর্থকদের।
স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি
বর্তমান স্পেন দলের হৃদপিণ্ড হল তাদের মিডফিল্ড। Rodri, Pedri, Gavi এবং Fabián Ruiz-এর মতো ফুটবলাররা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন অনায়াসে। বল দখল, আক্রমণ তৈরি এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বিশ্বসেরাদের মধ্যে ধরা হয়।
আক্রমণভাগেও রয়েছে নতুন প্রজন্মের বিস্ফোরক প্রতিভা। Lamine Yamal এবং Nico Williams-এর গতি ও ড্রিবলিং যে কোনও রক্ষণকে সমস্যায় ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ামাল এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেন।
কোচ Luis de la Fuente স্পেনকে শুধুমাত্র পুরনো ‘তিকিতাকা’ নির্ভর ফুটবল থেকে বের করে এনেছেন। এখন দলটি প্রয়োজন অনুযায়ী বল দখলের খেলা, দ্রুত আক্রমণ কিংবা কাউন্টার অ্যাটাক— সবই খেলতে পারে। এই কৌশলগত নমনীয়তাই তাদের বড় অস্ত্র।
কোথায় দুর্বলতা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন স্পেনের স্ট্রাইকার বিভাগ নিয়ে। দলের কাছে এমন কোনও বিশ্বমানের ‘নাম্বার নাইন’ নেই, যিনি সুযোগ পেলেই গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। Mikel Oyarzabal বা Ferran Torres কার্যকর হলেও তারা এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ের গোলমেশিন নন।
রক্ষণেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। তরুণ ডিফেন্ডার Pau Cubarsí অত্যন্ত প্রতিভাবান হলেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তাঁর অভিজ্ঞতা সীমিত। শক্তিশালী আক্রমণভাগের দলগুলোর বিরুদ্ধে এই অনভিজ্ঞতা সমস্যার কারণ হতে পারে।
আরও একটি উদ্বেগ চোট। ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভি কিংবা রদ্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা চোটে পড়লে দলের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
কেন আশাবাদী স্পেন?
গত কয়েক বছরে স্পেন আবার নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। ইউরো জয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য দলটিকে মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী করেছে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, এই দলের তরুণ ফুটবলাররা দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলছে। ফলে বোঝাপড়া অসাধারণ। অনেক বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস, ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভি ও কুবারসিদের নেতৃত্বে আগামী এক দশক আন্তর্জাতিক ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে স্পেন।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ তাই স্পেন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, ট্রফির অন্যতম দাবিদার। তবে ২০১০-এর পর ১২ বছরের বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হলে তরুণ তারকাদের সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?