‘ইয়ামাল নয়, আমাদের লক্ষ্য পুরো স্পেন দল’
ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মঙ্গলবার গভীর রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। তবে তাঁকে নিয়ে আলাদা কোনও পরিকল্পনা করছেন না ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। তাঁর মতে, শুধু একজন ফুটবলারের দিকে নজর রাখলে চলবে না, পুরো স্পেন দলই সমান বিপজ্জনক।
ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোনাতে বলেন, ফ্রান্স কোনও ফুটবলারকে ভয় পায় না। বরং তাদের লক্ষ্য নিজেদের সেরা ফুটবল খেলেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা। তাঁর কথায়, “সামনে কঠিন ম্যাচ। আমরা জানি স্পেন কতটা শক্তিশালী দল। তাই আমাদের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আশা করি শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হবে।”
চলতি বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল করলেও ১৯ বছর বয়সি লামিন ইয়ামাল নিজের গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষমতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলেছেন। ডান প্রান্ত ধরে তাঁর দৌড়, নিখুঁত ক্রস এবং সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা স্পেনের অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
তবু কোনাতে মনে করেন, ম্যাচের প্রস্তুতি কোনও এক ফুটবলারকে ঘিরে হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “ইয়ামাল নিঃসন্দেহে খুব ভালো ফুটবলার। কিন্তু আমরা শুধু ওকে নিয়ে ভাবছি না। স্পেনে আরও অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। তাই আমাদের নজর পুরো দলের উপর।”
বিশ্বকাপে ধারাবাহিক সাফল্যের বিচারে গত দুই দশকে অন্যতম সফল দল ফ্রান্স। ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সাতটি বিশ্বকাপের চারটিতে ফাইনাল খেলেছে তারা। এর মধ্যে দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং দু’বার রানার্স-আপ হয়েছে। এবারও যদি ফাইনালে ওঠে, তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ধারাবাহিকতার নিরিখে নতুন নজির গড়তে পারে ফরাসিরা।
তবে অতীতের সাফল্য নিয়ে ভাবতে রাজি নন কোনাতে। তাঁর মতে, ইতিহাস নয়, বর্তমান ম্যাচই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা অতীত নিয়ে কোনও আলোচনা করছি না। কোনও রেকর্ডের চাপও নিতে চাই না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, মাঠে নেমে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।”
ফ্রান্সের আক্রমণভাগও যথেষ্ট শক্তিশালী। কিলিয়ান এমবাপে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন এবং গোল করার ক্ষেত্রে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। পাশাপাশি উসমান দেম্বেলও ইতিমধ্যেই পাঁচ গোল করে নিজের ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। ফলে আক্রমণে ফ্রান্স যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
অন্যদিকে, স্পেনও এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত রক্ষণভাগের পরিচয় দিয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। ফলে দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
সব মিলিয়ে, সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের বার্তা একেবারেই স্পষ্ট— লামিন ইয়ামালকে আলাদা করে নয়, গোটা স্পেন দলকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামতে চায় তারা। কারণ, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?