ইয়ামালের ঝলক, ওয়ারজ়াবালের জোড়া গোল! সৌদিকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে ছন্দে ফিরল স্পেন

ইয়ামালের ঝলক, ওয়ারজ়াবালের জোড়া গোল! প্রথম ম্যাচে কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে আটকে গিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্পেন। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই যেন নিজেদের আসল রূপে ফিরল তারা। আটলান্টায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দাপুটে…

June 22, 2026
1 min read

ইয়ামালের ঝলক, ওয়ারজ়াবালের জোড়া গোল!

প্রথম ম্যাচে কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে আটকে গিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্পেন। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই যেন নিজেদের আসল রূপে ফিরল তারা। আটলান্টায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দাপুটে ফুটবল খেলে ৪-০ গোলে জয় তুলে নিল লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। মাঠে নেমেই নজর কাড়লেন তরুণ তারকা লেমিনে ইয়ামাল। প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই গোল করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। এ ছাড়াও মিকেল ওয়ারজ়াবাল করেন জোড়া গোল। একটি গোল আসে আত্মঘাতী থেকে।

বিশ্বকাপে সৌদি আরব যে কোনও সহজ প্রতিপক্ষ নয়, তা আগেই প্রমাণ করেছে তারা। আগের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সৌদি। পরে সেই আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ জিতেছিল। এ বারও প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ড্র করে নিজেদের ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিল তারা। কিন্তু স্পেনের আক্রমণের সামনে তাদের রক্ষণ বেশিক্ষণ টিকতে পারল না।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে স্পেন। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে ফেলে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

এই ম্যাচে স্পেনের প্রথম একাদশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছিলেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে। ইয়ামালকে শুরু থেকেই খেলান তিনি। পাশাপাশি দলে ফেরানো হয় দানি অলমো, আলেক্স বায়েনা এবং পেদ্রো পোরোকে। এই পরিবর্তনগুলিই যেন বদলে দেয় স্পেনের খেলার গতি। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে বল দখলে এগিয়ে থেকেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খাওয়া দলটিই এ দিন সৌদি রক্ষণকে বার বার ভেঙে দেয়।

ইয়ামাল শুরু থেকেই নিজের পরিচিত ছন্দে ছিলেন। ডান দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শট নেওয়া তাঁর অন্যতম শক্তি। সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও বার বার সেই কৌশল ব্যবহার করেন তিনি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পারেননি তরুণ এই ফুটবলার। কিন্তু মাঠে নেমে তাঁর পারফরম্যান্সে তার কোনও ছাপ দেখা যায়নি।

দশম মিনিটেই আসে স্পেনের প্রথম গোল। আলেক্স বায়েনার পাস থেকে ওয়ারজ়াবাল ক্রস বাড়ান। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে গিয়ে বল জালে পাঠান ইয়ামাল। এর পরেও তাঁর আক্রমণাত্মক ভূমিকা বজায় ছিল। তাঁর পায়ে বল গেলেই সৌদি রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল। এমনকি দলের রক্ষণেও সাহায্য করতে দেখা যায় তাঁকে। সৌদির কর্নারের সময় বিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেন ইয়ামাল। ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাঁকে তুলে নেন কোচ।

অন্য দিকে, ওয়ারজ়াবালের জন্যও এই ম্যাচ ছিল নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ৩০ মিনিটে তিনি এক বারও বলে স্পর্শ করতে পারেননি। কিন্তু সৌদি ম্যাচে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন তিনি। প্রথম ৩০ মিনিটেই করেন দু’টি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট। সামান্য ভাগ্য সহায় হলে হ্যাটট্রিকও হয়ে যেতে পারত তাঁর।

এই জয়ের ফলে কাবো ভার্দে ম্যাচের হতাশা অনেকটাই কাটিয়ে উঠল স্পেন। যদিও নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে তাদের এখনও অপেক্ষা করতে হবে উরুগুয়ে ম্যাচ পর্যন্ত। গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে উরুগুয়েকেই।

তবে ইতিহাস স্পেনকে আশাবাদী করে তুলছে। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতার সময়ও শুরুটা ভাল হয়নি তাদের। প্রথম ম্যাচে সুইৎজ়ারল্যান্ডের কাছে হেরেছিল স্পেন। তাই এ বারের প্রথম ম্যাচের হতাশার পর দ্বিতীয় ম্যাচে এমন প্রত্যাবর্তন দেখে সমর্থকেরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *