ইজ়রায়েল-হামাস
ইজ়রায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের সমাধানে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নেওয়া কাতার সাময়িকভাবে এই প্রচেষ্টা বন্ধ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হল, যুদ্ধ থামানোর ব্যাপারে উভয় পক্ষের সদিচ্ছার অভাব। ফলে, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
গত বছর থেকেই ইজ়রায়েল-হামাস সংঘাত মেটাতে কাতার সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। নানা আলোচনার মাধ্যমে সংঘর্ষ থামানোর প্রচেষ্টা করা হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দোহা ঘোষণা করেছে যে এই প্রচেষ্টা আপাতত বন্ধ করা হচ্ছে। এই ঘোষণা আসার পরে কাতারের কূটনৈতিক মহল জানিয়েছে, হামাস ও ইজ়রায়েল কোনও পক্ষই নিজ অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নয়, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় অন্তরায়।
কাতারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে আমেরিকা। আমেরিকা সম্প্রতি ইরান সমর্থিত সশস্ত্র হামাস নেতাদের উপর চাপ বাড়ানোর জন্য কাতারকে আহ্বান জানায়। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হামাসের পণবন্দি বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, কিন্তু হামাস এই প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় কাতারের শান্তি আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েল এবং হামাসের এই অচলাবস্থা নিয়ে কাতারের এক কূটনীতিক সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইজ়রায়েল ও হামাসের মনোভাব দেখে আমরা অত্যন্ত হতাশ। দু’পক্ষের মধ্যে সরল বিশ্বাসের অভাবের কারণে এক্ষেত্রে সমাধান অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় এই মুহূর্তে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা কষ্টকল্পিত।”
এদিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে জয়ের পর নতুনভাবে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসতে চলেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকার পুরোনো পশ্চিম এশিয়া নীতি নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।