ইউটিউব তারকা খান স্যর
ইউটিউবের জনপ্রিয় শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদ খান স্যর, যাঁর অনন্য পড়ানোর পদ্ধতি লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে মুগ্ধ করেছে, সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভে যোগ দিয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে আটক করা হয়েছিল বলে গুঞ্জন ওঠে। যদিও বিহার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি বিভ্রান্তিকর এবং তিনি স্বেচ্ছায় থানায় গিয়েছিলেন।
বিক্ষোভে যোগদান এবং বিতর্ক
বিপিএসসি পরীক্ষার্থীরা সম্প্রতি পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে পটনায় বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং এক প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেওয়া হোক। খান স্যর এই বিক্ষোভে যোগ দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তিনি জানান, তাঁদের দাবি সাংবিধানিক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত। তিনি বলেন, “আমরা রাজপথে প্রতিবাদ করছি না। আমরা সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত স্থানে প্রতিবাদ করছি।”
তাঁর বক্তব্যের মধ্যে উঠে আসে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি পরীক্ষার ফর্ম পূরণের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন এবং বলেন, “সার্ভারের সমস্যার কারণে অনেক পরীক্ষার্থীর ফর্ম গ্রহণ করা হয়নি। এক সময়ে, এক পরীক্ষা এবং এক প্রশ্নপত্র—এভাবেই পরীক্ষা নেওয়া উচিত।”
বিক্ষোভের সময় তাঁকে থানায় যেতে দেখা যায় এবং গভীর রাতে তাঁকে বেরোতেও দেখা যায়। এই ঘটনায় জল্পনা শুরু হলেও বিহার পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, তাঁকে আটক করা হয়নি। তবে এই বিতর্ক সামাজিক মাধ্যমে খান স্যরকে নিয়ে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষাদানের পথচলা
খান স্যরের আসল নাম ফয়জ়ল খান। তিনি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের বাসিন্দা। ইলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তাঁর বাবা ছিলেন সেনাকর্তা এবং মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী খান স্যর এনডিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে নির্বাচিত হননি। বর্তমানে তিনি পটনায় কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন এবং ইউটিউবে নিজের শিক্ষাদানমূলক ভিডিও শেয়ার করেন।
ইউটিউব জগতে জনপ্রিয়তা
‘খান জিএস রিসার্চ সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান তিনি। ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ২ কোটি ৩৯ লক্ষ, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষামূলক চ্যানেল। শিক্ষার্থীদের কঠিন বিষয় সহজ ভাষায় এবং অনন্য উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো তাঁর বিশেষত্ব। তাঁর ভিডিওগুলি শুধু পটনাই নয়, সারা দেশের ছাত্রছাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়।
খান স্যরের শিক্ষাদানের পদ্ধতি ছাত্রছাত্রীদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় যে তাঁর আসল নামের থেকে ‘খান স্যর’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। তাঁর আসল নাম বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তেমন কেউ প্রশ্ন তোলে না।
বিতর্কিত অধ্যায়
২০২২ সালে রেলের নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভেও খান স্যরের নাম জড়িয়েছিল। ওই সময় পটনার হিংসাত্মক বিক্ষোভে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তবে তিনি জানান, যদি তাঁর ভূমিকা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁকে অবশ্যই গ্রেফতার করা উচিত।
ব্যক্তিগত জীবন
খান স্যর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুবই গোপনীয়। ছাত্রছাত্রীদের কাছেও নির্দেশ ছিল, তাঁর আসল নাম বা ব্যক্তিগত নম্বর যেন কোথাও প্রকাশ না করা হয়। তবে তাঁর পরিবার সম্পর্কে জানা যায় যে, তাঁর বড় ভাই ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো।
সামাজিক ও শিক্ষাগত ভূমিকা
টেলিভিশন শোতেও তাঁর উপস্থিতি তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। ২০২৩ সালে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে উপস্থিত হয়ে তিনি ছাত্রদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন, যা সঞ্চালক কপিল শর্মাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
শেষ কথা
খান স্যর একজন অসাধারণ শিক্ষক এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তিত্ব। যদিও বিভিন্ন বিতর্ক তাঁর পথচলায় ছায়া ফেলেছে, তবু শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান অমলিন। তাঁর অনন্য পড়ানোর কৌশল এবং দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনায় নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জোগায়।