আলাদা থেকেও একসঙ্গে রচনা-প্রবাল!
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকের কৌতূহল বরাবরই তুঙ্গে। সম্প্রতি গণেশচতুর্থীর পুজোয় স্বামী প্রবাল বসুর সঙ্গে তাঁর ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। তাঁদের একসঙ্গে দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— আলাদা থাকার পরেও কেন তাঁরা পাশাপাশি বসে পুজো করলেন?
বুধবার ছিল গণেশচতুর্থী। রচনার বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছিল ঘরোয়া পুজোর, যা তিনি নিজেই ভাগ করে নিয়েছিলেন সামাজিক মাধ্যমে। ছবিগুলিতে দেখা গিয়েছে, প্রবালও পুজোয় অংশ নিয়েছেন। এই দৃশ্য দেখে বহু নেটিজেন অবাক হয়েছেন। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে রচনা ও প্রবাল আলাদা থাকেন বলে জানা যায়। তবে তাঁদের এই সম্পর্কের গল্প অনেক গভীর, যেখানে ছেলের প্রতি দায়িত্ববোধই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
রচনা একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁদের দাম্পত্য সুখের ছিল না। তবুও, ছেলের স্বার্থে তাঁরা আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটেননি। তিনি চাননি, ছেলে কখনও সমাজের সামনে ‘ডিভোর্সি বাবা-মা’র সন্তান’ হিসেবে পরিচিত হোক। তাই আলাদা থাকলেও প্রবালের সঙ্গে সম্পর্কের সেতু ভেঙে ফেলেননি অভিনেত্রী। তিনি স্বীকার করেছেন, প্রবাল ছেলের জীবনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত— পরীক্ষার সময় পড়াশোনায় সাহায্য করা থেকে শুরু করে একসঙ্গে সময় কাটানো, এমনকি বাইরে বেড়াতে যাওয়া বা খাওয়াদাওয়া— সবই নিয়মিত চলে।
এমন পারস্পরিক বোঝাপড়ার উদাহরণ বলিউডেও নতুন নয়। হৃতিক রোশন-সুজান খান কিংবা মলাইকা অরোরা-আরবাজ খান, তাঁরা আইনি বিচ্ছেদ করলেও সন্তানের জন্য ‘কো-পেরেন্টিং’-এর পথে হেঁটেছেন। টলিউডে রচনা-প্রবালের সম্পর্ক সেই ধারারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা দেয়— দাম্পত্যে দূরত্ব থাকলেও, সন্তানের প্রতি দায়িত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্ককে অন্যভাবে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
গণেশপুজোর ছবিতে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তা হয়তো তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি দিক উন্মোচন করেছে। রচনা-প্রবালের সম্পর্ক প্রমাণ করে, সংসার ভেঙে গেলেও পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ অটুট থাকতে পারে।