‘আরশোলা’দের দলে ভাঙন! দীপকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে নতুন সংগঠন গড়লেন মণীশ ব্রহ্মভট্ট

‘আরশোলা’দের দলে ভাঙন! ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-কে ঘিরে এ বার প্রকাশ্যে এল মতবিরোধ। সংগঠনের প্রাক্তন স্বেচ্ছাসেবক মণীশ ব্রহ্মভট্ট বৃহস্পতিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি-ডেমোক্র্যাটিক’ (সিজেপি-ডি) নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির ঘোষণা…

September 4, 2026
1 min read

‘আরশোলা’দের দলে ভাঙন!

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-কে ঘিরে এ বার প্রকাশ্যে এল মতবিরোধ। সংগঠনের প্রাক্তন স্বেচ্ছাসেবক মণীশ ব্রহ্মভট্ট বৃহস্পতিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি-ডেমোক্র্যাটিক’ (সিজেপি-ডি) নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির ঘোষণা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মূল সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং সংগঠনটি নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে।

ব্রহ্মভট্টের নিশানায় সরাসরি সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, তরুণদের উদ্যোগে তৈরি হওয়া আন্দোলনটি ধীরে ধীরে দীপকের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘টিম কেজরীবাল’-এ পরিণত হয়েছে। এমনকি সিজেপির নেতৃত্বে থাকা কয়েক জনের সঙ্গে আম আদমি পার্টির (আপ) পুরনো যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ব্রহ্মভট্টের বক্তব্য, সিজেপির আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু বিজেপির বিরোধিতা করা হওয়া উচিত নয়। ছাত্র, বেকার যুবক কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সমস্যা নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলাই হওয়া উচিত বলে তাঁর দাবি। তাঁর অভিযোগ, আপ এবং অরবিন্দ কেজরীবালের রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সংগঠনের একটি অংশের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে।

তবে ব্রহ্মভট্টের এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত দীপকে বা সিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন গোষ্ঠী গঠনের এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ঘিরে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কে এই মণীশ ব্রহ্মভট্ট?

সিজেপি-র ‘বিদ্রোহী’ মুখ হয়ে ওঠার আগে থেকেই নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ব্রহ্মভট্ট। ২০২২ সালের গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে পালনপুর কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে তাঁর ঝুলিতে এসেছিল ৯৬৪টি ভোট, যা মোট ভোটের মাত্র ০.৫৩ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে শেষ করেছিলেন তিনি। ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপির অনিকেত গিরিশভাই ঠাকর জয়ী হন ৯৫,৫৮৮ ভোট পেয়ে।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের ‘মাইনেতা’ প্ল্যাটফর্মে থাকা নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ২০২২ সালে ব্রহ্মভট্টের বয়স ছিল ৩৭ বছর। সেই হিসাবে বর্তমানে তাঁর বয়স ৪১-৪২ বছরের মধ্যে। পেশায় তিনি ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট ছিলেন। হেমচন্দ্রাচার্য নর্থ গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকম পড়ার পাশাপাশি এলএলবি-র প্রথম বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। হলফনামায় তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৪.৪২ লক্ষ টাকা এবং কোনও ঋণের উল্লেখ ছিল না। একই হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে চারটি বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

কী ভাবে সিজেপিতে এলেন ব্রহ্মভট্ট?

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের পর গত ১৬ মে অভিজিৎ দীপকে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে সিজেপি তৈরি করেন। ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ মন্তব্য ঘিরে তৈরি ক্ষোভ থেকেই প্রথমে এই উদ্যোগের সূত্রপাত।

পরবর্তী সময়ে অনলাইন রসিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে সিজেপি তরুণদের একটি আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে। বেকারত্ব, নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের মতো বিষয়েও তারা সরব হয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনের সময় ব্রহ্মভট্টও সিজেপির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হন।

কিন্তু পরে সংগঠনের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়েই তাঁর আপত্তি তৈরি হয়। ব্রহ্মভট্টের দাবি, জাতীয় স্তরের সংগঠন তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যের আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার প্রস্তাব উঠলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। নেতৃত্ব নির্বাচনে দীপকের ঘনিষ্ঠদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অগস্টে দীপকের বাড়িতে সিজেপির সদস্যদের বৈঠকের সময়ও ব্রহ্মভট্ট সেখানে ছিলেন না। বরং সহযোগী রাহুল পাণ্ড্যকে নিয়ে তিনি মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে ছিলেন। পরে দীপকের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, যন্তর মন্তরের আন্দোলনে সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বিক্ষোভের সময় অসুস্থ হয়ে দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অরবিন্দ কেজরীবাল ও আপের কয়েক জন নেতাকে দীপকের পাশে দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সিজেপির সঙ্গে আপের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও আপ নেতাদের সমর্থন বা দীপকের অতীত রাজনৈতিক যোগাযোগকে সিজেপি কেজরীবালের নির্দেশে চালিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। দীপকে নিজেও আপের সঙ্গে অতীত যোগাযোগের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, বর্তমানে তাঁর সঙ্গে ওই দলের কোনও সম্পর্ক নেই।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics
CJP

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *