‘আমি যদি স্ক্রিনশট না দিতাম, তাহলে কী করে নিজেকে রক্ষা করতাম?’—ফুঁসছেন শিবভক্ত জীতু কমল

ফুঁসছেন শিবভক্ত জীতু কমল! সাম্প্রতিক সময় টেলিভিশন জগতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় একঝলকে হয়ে দাঁড়িয়েছে জীতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের বিরোধ। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের বাইরেও এখন অনেকটাই বিতর্কের…

August 6, 2025
1 min read

ফুঁসছেন শিবভক্ত জীতু কমল!

সাম্প্রতিক সময় টেলিভিশন জগতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় একঝলকে হয়ে দাঁড়িয়েছে জীতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের বিরোধ। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের বাইরেও এখন অনেকটাই বিতর্কের মধ্যে আটকে আছেন দুই অভিনেতা। এক মাসের মধ্যে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই জুটির ব্যক্তিগত ঝামেলা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রধান আলোচ্য বিষয়। যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছেন, আর পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে উঠছে।

গত সোমবার রাতে দিতিপ্রিয়া একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, জীতু হোয়াটসঅ্যাপে তাকে কিছু অসম্মানজনক এবং আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়েছেন। এসব বার্তা যে কোনও নারীর পক্ষে নিন্দনীয়, তিনি বলেন। এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জীতু পাল্টা স্ট্রাইক মেরে নিজেদের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন।

কিন্তু প্রশ্ন উঠে, ব্যক্তিগত কথোপকথন কি প্রকাশ্যে আনা উচিত? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক হয়। আনন্দবাজার ডট কম যখন জীতুর সঙ্গে কথা বলেন, তখন তিনি একদমই সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আমারও তো বাবা-মা আছেন। আমারও সম্মান আছে। তাঁদের সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব আমার নয় কি?”

জীতু আরও জানান, “আমি যদি স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ না করতাম, তাহলে কী করে নিজেকে রক্ষা করতাম? আমি তো অপেক্ষা করেছি, হয়তো পোস্টটা তুলে নেবে, হয়তো চুপ করে যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি, বরং এখনো একের পর এক অবান্তর মন্তব্য করে যাচ্ছে। তখন আমি আর কী করব?”

এক অন্য দিক থেকে লক্ষ্যণীয়, প্রতিটি পোস্টের শুরুতেই জীতু লিখছেন ‘নমঃ শিবায়’ বা ‘ওং’—শিবভক্ত হিসেবে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ পাচ্ছে। ছোটপর্দায় বহুবার ‘শিব’ চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে, এবং তা তিনি গর্বের সঙ্গে সবাইকে জানান দিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে, নিন্দুকরা তাঁর এই ঈশ্বরভক্তিকে কি ভ্রুক্ষেপ করছেন? জীতু এ প্রসঙ্গে বলেন, “মানুষ হয়তো ভেবে থাকে ঈশ্বরকে ভয় করলেই সব ঠিক থাকবে, কিন্তু আমার বিশ্বাস আলাদা। ঈশ্বর সব সময় ভয় পাওয়ার জন্যই নন, বরং আমাদের দুঃখ-কষ্টে সঙ্গী হন, সুখ-দুঃখের সবটাই ভাগ করে নেন। আমি ওঁর সঙ্গে সব কিছু শেয়ার করি।”

জীতুর এই কথা থেকে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত বিবাদের মাঝেও তিনি শিবভক্ত হিসেবে নিজের বিশ্বাসকে অটুট রেখেছেন। তিনি ঈশ্বরের কাছ থেকে যে শক্তি ও মানসিক সমর্থন পান, তা এখন তাঁর জন্য রক্ষা ও সাহসের উৎস। এই পরিস্থিতিতে তিনি শুধু নিজের সম্মান রক্ষার কথাই বলছেন না, বরং নিজের পরিবার এবং পরিবারের সম্মানের কথাও তুলে ধরছেন।

বিনোদন জগতে কখনো কখনো এই ধরনের টানাপোড়েন নতুন নয়, কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে যখন বিতর্ক হয়, তখন তা ভক্তদের মনেও বিভিন্ন প্রশ্ন জাগায়। জীতু-দিতিপ্রিয়ার এই ঘটনাও সেই রকমই। তবে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি ভাবায়, অন্যদিকে অভিনেতাদের নিজেকে রক্ষা করার অধিকারও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আর এখানেই এখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, জীতু কমল যেন বলতে চাইছেন, ব্যক্তিগত ইস্যু যখন নিজের সম্মান ও পরিবারকে ছুঁয়ে যায়, তখন নিজের কথা বলতে বাধ্য হন। আর সেই লড়াইয়ে শিবের আশীর্বাদ তাঁর সঙ্গে রয়েছে। এটাই হয়তো এখন এই অভিনেতার সবচেয়ে বড় শক্তি।

দোকানের মশলার বদলে ঘরেই বানিয়ে নিন মাংসের স্বাদ বাড়ানোর জাদুমন্ত্র

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *