‘আমার কাছে পুজো সাতরঙা, কিন্তু উৎসবে সমকামীরা কেন প্রথম সারিতে নেই?’—পরিচালক ওনিরের প্রশ্ন

কিন্তু উৎসবে সমকামীরা কেন প্রথম সারিতে নেই?’—পরিচালক ওনিরের প্রশ্ন শিকড় যদিও ভুটানেই, কিন্তু হৃদয় জুড়ে আছে বাংলা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মাত্র কয়েক বছর কলকাতার পুজো দেখেছেন চিত্রপরিচালক ওনির। সেই…

September 29, 2025
1 min read

কিন্তু উৎসবে সমকামীরা কেন প্রথম সারিতে নেই?’—পরিচালক ওনিরের প্রশ্ন

শিকড় যদিও ভুটানেই, কিন্তু হৃদয় জুড়ে আছে বাংলা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মাত্র কয়েক বছর কলকাতার পুজো দেখেছেন চিত্রপরিচালক ওনির। সেই স্বল্প দিনের সেই উৎসবের ছোঁয়া এখনও মনে আছে, তবে নিজের জন্মভূমি, মুম্বই ও জার্মানির জীবন তাঁকে শহরের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত করতে পারেনি। আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে অকপট আলাপে এই পরিচালক জানালেন তাঁর পুজোর অনুভূতি ও সমাজ-উপেক্ষিত সত্য।

ওনির বলেন, “আমি ছোট থেকেই বাইরে থেকেছি। ভুটান আমার জন্মস্থান। মুম্বই এখন আমার বাড়ি। মাঝের কয়েক বছর জার্মানিতে কাটিয়েছি। কলকাতার সঙ্গে সম্পর্ক স্বল্প, তবে স্বপ্নময় ছিল। সেই সময়ে আনন্দ ছিল—কেবল পুজো নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনটাই ছিল আনন্দময়।”

কলকাতার দুর্গাপুজোর সঙ্গে অন্য শহরের পুজো তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভুটান বা জার্মানিতে এত বড় দুর্গাপুজো হয় না। মুম্বইয়ে অবশ্য আমরা বন্ধুদের সঙ্গে সেজে প্যান্ডেল ঘুরতে যাই। বড় হোক বা ছোট, অন্তত একবার সব ঘুরে আসি। কিন্তু পুজোর আনন্দ মানেই শুধু ঘুরে বেড়ানো নয়, আমার কাছে পুজো হলো উৎসব—জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালির সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান।”

তবে আনন্দের সঙ্গে ওনিরের একটি আক্ষেপও আছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “সমকামী হোন বা প্রান্তিক লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের মানুষরা কি সমানভাবে পুজোর অংশ হতে পারে? আমার কাছে পুজো ‘সাতরঙা’, কিন্তু আমি এখনও এমন কোনও পুজোর খবর পাইনি যেখানে এই মানুষগুলো দায়িত্বের প্রথম সারিতে রয়েছেন।”

ওনির আরও যোগ করেন, “বাড়ির পুজোয় কোথাও না কোথাও এই মানুষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা ঠিক। কিন্তু কলকাতার বড় বড় মণ্ডপে, জনপ্রিয় প্যান্ডেলে কি সবাই স্থান পাচ্ছেন? পাচ্ছেন না। তাই আমি চাই, শহরের এমন বিখ্যাত পুজোয় দায়িত্ব নিক সমকামী ও প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষরাও। সময় ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে, এবং তার অল্পবিস্তর প্রমাণও মেলে।”

সংক্ষেপে, ওনিরের কথায় স্পষ্ট—পুজো তার কাছে আনন্দ, ঐক্য, সংস্কৃতি ও আত্মপ্রকাশের মঞ্চ। কিন্তু এই মঞ্চ যেন সবার জন্য উন্মুক্ত হয়—কোনও লিঙ্গ, যৌন পরিচয় বা সামাজিক মর্যাদা ভেদাভেদ ছাড়া। তাঁর চোখে পুজো ‘সাতরঙা’ হতে পারলে তবেই সত্যিকারের উৎসবের রূপ পাবো আমরা।

উৎসবের আনন্দে মগ্ন হওয়া ঠিক আছে, তবে সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে তা সম্পূর্ণ উৎসব হয়ে ওঠে না—ওনিরের বার্তাই সেটি স্পষ্টভাবে বলছে।

‘সত্যমেব জয়তে’! দিল্লি হাই কোর্ট আবেদন খারিজ, সমীরের মন্তব্যে নতুন ইঙ্গিত?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *