ম্যাচের মাঝেই কাবো ভার্দের ফুটবলারকে কী বলেছিলেন মেসি?
লিয়োনেল মেসিকে কাছ থেকে দেখার স্বপ্ন অনেক ফুটবলারেরই থাকে। বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই সুযোগ পেয়েছিলেন কাবো ভার্দের ডিফেন্ডার রবের্তো লোপেজ। তবে সেই মুহূর্তে মেসির একটি মন্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ কাবো ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারাতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। টানটান উত্তেজনার সেই ম্যাচেই মাঠে মেসি ও লোপেজের মধ্যে কিছুক্ষণ কথোপকথন দেখা যায়। ম্যাচ শেষে সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন কাবো ভার্দের ফুটবলার।
লোপেজ জানান, ছোটবেলা থেকেই মেসির ভক্ত তিনি। তাই মাঠে তাঁকে সামনে পেয়ে নিজের উত্তেজনা সামলাতে পারেননি। একসময় হালকা করে মেসিকে স্পর্শও করেছিলেন। তাঁর কথায়, তিনি যেন নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে, যাঁকে এত দিন পর্দায় দেখেছেন, তিনি সত্যিই সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
তবে সেই আচরণে খুশি হননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। লোপেজের দাবি, মেসি তাঁকে বলেছিলেন, বলের বাইরে গিয়ে এভাবে স্পর্শ করা ঠিক নয়। এটি ফাউল এবং এমনটা যেন আর না করা হয়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতেই হয়তো এমন কথা বলছেন মেসি।
বিরতির সময় আবারও মেসির সঙ্গে কথা বলেন লোপেজ। তখন তিনি খোলাখুলি জানান, তাঁর উদ্দেশ্য কোনও রকম অসৌজন্য দেখানো নয়। বরং তিনি শুধু নিজের প্রিয় ফুটবলারকে একবার ছুঁয়ে দেখার আবেগ সামলাতে পারেননি। লোপেজের কথায়, মেসি তখন বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দু’জনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে করমর্দনও হয়।
এই ঘটনাই আবার প্রমাণ করে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপে মাঠে কঠোর থাকলেও ম্যাচের বাইরে মেসি প্রতিপক্ষের আবেগকে সম্মান করতে জানেন। লোপেজও সাক্ষাৎকারে বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিরুদ্ধে খেলাটাই তাঁর কাছে আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
এদিকে চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সি মেসি। প্রতিটি ম্যাচেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি। দলের আক্রমণের মূল ভরসা হওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্বেও নজর কেড়েছেন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
এখন পর্যন্ত আটটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মেসি। তাঁর পারফরম্যান্সে ভর করেই আর্জেন্টিনা আরও একবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়লেও তাঁর খেলার মান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের দক্ষতায় কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি।
কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচের ছোট্ট সেই কথোপকথন তাই শুধুই একটি মাঠের ঘটনা নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের প্রতি প্রতিপক্ষের শ্রদ্ধা এবং প্রতিযোগিতার মধ্যেও পারস্পরিক সম্মানের এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে রইল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?