আমরা কারও বিরুদ্ধে নই’, ব্রিক্‌সের মঞ্চে মোদীর বার্তা, একতরফা শুল্কনীতির নিন্দা ঘোষণাপত্রে

ব্রিক্‌সের মঞ্চে মোদীর বার্তা, একতরফা শুল্কনীতির নিন্দা ঘোষণাপত্রে দিল্লিতে ব্রিক্‌সের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দক্ষিণ…

September 12, 2026
0 min read

ব্রিক্‌সের মঞ্চে মোদীর বার্তা, একতরফা শুল্কনীতির নিন্দা ঘোষণাপত্রে

দিল্লিতে ব্রিক্‌সের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলির আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে ব্রিক্‌সের সর্বসম্মত ঘোষণাপত্রে একতরফা শুল্ক আরোপের নিন্দা করা হয়েছে। কোনও দেশের নাম না থাকলেও এই অবস্থান যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ঘিরে, তা আন্তর্জাতিক মহলে স্পষ্ট বলেই মনে করা হচ্ছে।

শনিবার প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, একতরফা ভাবে শুল্ক চাপানো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গত এক বছরে বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিক্‌স এ বার সরাসরি কোনও দেশের নাম না করেই এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করল।

শুধু শুল্ক নয়, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরুদ্ধেও অবস্থান জানিয়েছে ব্রিক্‌স। এমন নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতি, খাদ্যসুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং মানবাধিকারের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে জোট। একই সঙ্গে সংঘাতের সমাধানে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনীতি ও আলোচনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। গাজ়ায় সংঘর্ষবিরতির প্রয়োজনীয়তার কথাও ঘোষণাপত্রে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইনের পূর্ণ সদস্যপদের দাবির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে ব্রিক্‌স।

সম্মেলনে মোদী স্পষ্ট করে বলেন, ব্রিক্‌স কোনও দেশের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া জোট নয়। তাঁর কথায়, পারস্পরিক মতপার্থক্য থাকলেও সদস্য দেশগুলিকে একে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করতে হবে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগোতে হবে। গত দুই দশকে ব্রিক্‌স যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে, সে কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিও ফের জোরালো করেছেন মোদী। ভারতের দীর্ঘদিনের দাবি, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় পরিবর্তন প্রয়োজন। সম্মেলনে মোদী বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে আর দেরি করা উচিত নয়।

এ দিনের বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলি। মোদীর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই দেশগুলির ভূমিকা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তিনি বর্তমান ব্যবস্থাকে একটি পিরামিডের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তার শীর্ষে থাকা কয়েকটি দেশই মূলত সিদ্ধান্ত নেয়, অথচ নীচের দিকে থাকা বহু দেশ সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব বহন করে।

মোদীর মতে, দক্ষিণ গোলার্ধের বহু দেশে সংকট তুলনামূলক বেশি হলেও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের কণ্ঠস্বর যথেষ্ট জোরালো নয়। তাই ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থায় এই দেশগুলির আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। গত বছর ব্রাজ়িলে অনুষ্ঠিত ব্রিক্‌স সম্মেলনেও একই বিষয়ে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দিল্লির মঞ্চে ফের সেই বার্তাই সামনে আনলেন তিনি—পরস্পরের পাশে থেকে, মতপার্থক্য সামলে, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *