চোখের জলে বিদায় কাসেমিরোর!
বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজ়িলের বিদায় যেন মেনে নিতে পারছেন না কাসেমিরো। নরওয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার। চোখের জল সামলাতে সামলাতেই তিনি বলেন, তাঁদের প্রজন্ম ইতিহাসে এমন একটি দল হিসেবেই থেকে যাবে, যারা ব্রাজ়িলকে আর একটি বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেনি।
বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজ়িলের ট্রফি জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হল। এক সময় যাদের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার মনে করা হত, সেই দল এবারও ব্যর্থ। এই হতাশার ভার সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন কাসেমিরো।
ম্যাচের পর তিনি বলেন, “খুব কষ্ট হচ্ছে। আমাদের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। ব্রাজ়িলের প্রতিটি শিশুই বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নই আমাদেরও ছিল। আমি তিনটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু একবারও ট্রফি জিততে পারলাম না।”
ব্রাজ়িলের ফুটবল ইতিহাসে এমন ব্যর্থতার নজির আগেও রয়েছে। ১৯৮২ সালের দুর্দান্ত দল কিংবা ১৯৯৮ সালের ফাইনালিস্ট ব্রাজ়িল— প্রতিভায় ভরপুর হয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সেই তালিকাতেই এবার যোগ হল কাসেমিরোদের প্রজন্মের নাম।
এই বিশ্বকাপে কাসেমিরোর পারফরম্যান্সও ওঠানামার মধ্যেই ছিল। জাপানের বিরুদ্ধে তিনি নজরকাড়া ফুটবল খেলেছিলেন। স্কটল্যান্ড ম্যাচেও তাঁর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে মিডফিল্ড থেকে পুরো দলের খেলা নিয়ন্ত্রণ করার যে দায়িত্ব তাঁর উপর ছিল, সেটি ধারাবাহিকভাবে পালন করতে পারেননি বলে মনে করছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।
তবু নিজের সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত কাসেমিরো। তাঁর কথায়, “আমি গর্বিত যে এই ফুটবলারদের সঙ্গে দেশের হয়ে খেলতে পেরেছি। আমরা সবাই সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু ইতিহাস হয়তো আমাদের এমন একটি প্রজন্ম হিসেবেই মনে রাখবে, যারা ব্রাজ়িলকে বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেনি।”
দেশবাসীর কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। তিনি বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি, নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দেশের মানুষকে হতাশ করেছি। এর জন্য খুব খারাপ লাগছে।”
আবেগঘন সেই মুহূর্তে ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন কাসেমিরো। তাঁর মতে, ফুটবলে জয়-পরাজয় জীবনেরই অংশ। এই কঠিন সময় কাটিয়ে আবার নতুন করে এগিয়ে যেতে হবে। আপাতত পরিবারের কাছে ফিরে কিছুটা সময় কাটাতে চান তিনি।
বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজ়িলের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে কাসেমিরোর এই আবেগঘন বার্তা ফুটবলপ্রেমীদেরও স্পর্শ করেছে। কারণ, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়ে ট্রফি না জেতার আক্ষেপ যে কতটা গভীর, তাঁর চোখের জলই যেন সেই গল্প বলে দিল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?