আবার বাবর-যুগ পাকিস্তানের টেস্টে!
পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের বড় পরিবর্তন। টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল শান মাসুদকে। তাঁর জায়গায় আবারও অধিনায়কের দায়িত্বে ফিরলেন বাবর আজ়ম। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ়ে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন বাবরই।
দ্বিতীয় দফায় টেস্ট অধিনায়কত্ব পেলেন বাবর। দল ঘোষণার আগেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নেতৃত্বে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও বাবরকে কত দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
শান মাসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৬টি টেস্ট খেলেছে। তার মধ্যে জিতেছে মাত্র চারটি, হেরেছে ১২টি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে জোড়া টেস্ট সিরিজ় হার এবং টানা সাত টেস্টে পরাজয় তাঁর নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচ হারার নজির যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ।
পরিসংখ্যানও মাসুদের বিপক্ষে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন কোনও অধিনায়ক নেই, যিনি প্রথম ১৬টি টেস্টের মধ্যে ১২টিতেই হেরেছেন। পাকিস্তানের হয়ে অন্তত ১৬টি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যেও তাঁর হার সবচেয়ে বেশি। শুধু মিসবা-উল-হক অধিনায়ক হিসেবে ১৯টি টেস্ট হেরেছিলেন, তবে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৫৬টি ম্যাচে।
তবে অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থ হলেও ব্যাট হাতে মাসুদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বোর্ড। নেতৃত্ব পাওয়ার পর তাঁর ব্যাটিং গড় বেড়ে হয়েছে ৩৪.০৬, যেখানে অধিনায়ক হওয়ার আগে গড় ছিল ২৮.৫১। সেই কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সফরের দলে তাঁর জায়গা বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, বাবর আজ়মকে সরিয়েই এক সময় মাসুদকে টেস্ট দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল। এখন আবার সেই বাবরের হাতেই ফিরল নেতৃত্ব।
প্রথম দফায় অধিনায়ক হিসেবে বাবরের রেকর্ড যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিল। তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান ২০টি টেস্টের মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছিল। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ়ে হারানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েও প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান।
তবে নেতৃত্ব হারানোর পর বাবরের ব্যাটিংয়েও প্রভাব পড়ে। তিন ফরম্যাটেই ধারাবাহিকতা হারান তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর তাঁর ব্যাটিং গড় নেমে আসে প্রায় ২৭-এ। অথচ অধিনায়ক থাকাকালীন লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর গড় ছিল ৫০-এরও বেশি।
এবার নেতৃত্বে ফিরে বাবর শুধু দলকে সাফল্যের পথে ফেরাতে পারবেন কি না, তা-ই নয়, নিজের ব্যাটিংও আগের ছন্দে ফেরাতে পারেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?