পটাশপুরে ধরা মাওবাদী নেতা আকাশ!
দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরে থাকা মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতা আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডলকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ৬৪ বছরের এই মাওবাদী নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডে ১ কোটি এবং ওড়িশায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার ফুলচক গ্রামের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল আশির দশক থেকেই অতি-বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে পিপলস্ ওয়ার গ্রুপে যোগ দেন। সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠন তৈরি হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ এবং পড়শি ঝাড়খণ্ডে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান তিনি। লালগড় আন্দোলনের সময়ও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
২০১০ সালে সুদীপ চোংদার গ্রেফতার হওয়ার পর রাজ্যে মাওবাদীদের দায়িত্ব পান আকাশ। পরে পলিটব্যুরোর সদস্য কিষান ওরফে কোটেশ্বর রাওয়ের মৃত্যুর পর বাংলা লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম এলাকায় সংগঠনের কাজ সামলাতে সক্রিয় হন তিনি।
গত কয়েক বছরে ওই অঞ্চলের একাধিক এরিয়া কমান্ডার আত্মসমর্পণ করায় মাওবাদী সংগঠন সেখানে দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই সময় আকাশ কিছুদিন সারান্ডা এলাকায় আর এক শীর্ষ নেতা মিসির বেসরার সঙ্গে ছিলেন বলে সূত্রের দাবি। সম্প্রতি মিসির বেসরা গ্রেফতার হওয়ার পর ছোট একটি স্কোয়াড নিয়ে রাজ্যে ফেরার চেষ্টা করেন আকাশ। পথে তাঁর তিন সঙ্গীও পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বলে জানা গিয়েছে।
এর পরেই বিপাকে পড়েন আকাশ। সূত্রের দাবি, স্কোয়াডের সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সাও পুলিশের হাতে চলে যাওয়ায় কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। আত্মসমর্পণের প্রস্তাব না মেনে কিছু অর্থের ব্যবস্থা করতেই পটাশপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রীও মাওবাদী সংগঠনের সদস্য বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আকাশের ওই আত্মীয়ের বাড়ির উপর বেশ কিছু দিন ধরেই নজর রাখছিল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। সেখানে পৌঁছনোর পরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতা পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতারির কথা ঘোষণা করেনি। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে, তার পরেই বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হবে। আকাশের কাছ থেকে সাংগঠনিক নথি ও বেশ কিছু বই উদ্ধার হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।
অন্য দিকে, মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের পক্ষ থেকে রঞ্জিত শূর আকাশকে দ্রুত আদালতে হাজির করানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁকে রাজনৈতিক বন্দি হিসাবে গণ্য করারও দাবি উঠেছে সংগঠনের তরফে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।