আতঙ্কে নয়, ক্রিকেটের উন্মাদনায় রাত জাগছে পুলওয়ামা! বাইশ গজে বদলাচ্ছে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুরনো ছবি

আতঙ্কে নয়, ক্রিকেটের উন্মাদনায় রাত জাগছে পুলওয়ামা! একসময় সন্ধ্যা নামলেই যেখানে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হত, সেই পুলওয়ামার রাত এখন কাটছে ক্রিকেটের উত্তেজনায়। গ্যালারিতে দর্শকের ভিড়, মাঠে বাউন্ডারি-উইকেটে উল্লাস, আর স্টেডিয়ামের…

September 9, 2026
1 min read

আতঙ্কে নয়, ক্রিকেটের উন্মাদনায় রাত জাগছে পুলওয়ামা!

একসময় সন্ধ্যা নামলেই যেখানে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হত, সেই পুলওয়ামার রাত এখন কাটছে ক্রিকেটের উত্তেজনায়। গ্যালারিতে দর্শকের ভিড়, মাঠে বাউন্ডারি-উইকেটে উল্লাস, আর স্টেডিয়ামের বাইরে মানুষের ঢল— দক্ষিণ কাশ্মীরের এই শহরের সাম্প্রতিক ছবি যেন তার পুরনো পরিচয়কে ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে।

২০১৯ সালের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর পুলওয়ামার নামের সঙ্গে আতঙ্কের স্মৃতি আরও গভীর ভাবে জড়িয়ে যায়। তারও আগে দীর্ঘ সময় ধরে জঙ্গি কার্যকলাপ, সংঘর্ষ এবং পাথর ছোড়ার ঘটনার কারণে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের চলাফেরা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছিল। সেই জায়গাতেই ২০২৬ সালে দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি।

গত শনিবার রাতেই তার বড় উদাহরণ মিলেছে। পুলওয়ামার স্টেডিয়াম কার্যত দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল। উপলক্ষ ছিল স্থানীয় ‘রয়্যাল প্রিমিয়ার লিগ’-এর ফাইনাল। ম্যাচ দেখতে শুধু গ্যালারিই ভরেনি, স্টেডিয়ামের বাইরে রাস্তাতেও জমে যায় মানুষের ভিড়। তৈরি হয় যানজটও।

ক্রিকেটের প্রতিটি মুহূর্তে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বাউন্ডারি বা উইকেট পড়লেই গ্যালারি থেকে উঠেছে চিৎকার। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই উন্মাদনাও কমেনি। বরং বহু বছর পর পুলওয়ামার রাত যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

এই স্থানীয় ক্রিকেট লিগে উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তের ১০টি ক্লাব অংশ নিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে প্রতিযোগিতাটি হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমীকে মাঠমুখী করেছে। শুধু দিনের ম্যাচ নয়, রাতের ম্যাচ আয়োজন করাটাও ছিল এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্যোক্তা পুলওয়ামার গায়ক ইরফান সরকার। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক বছর ধরে তিনি স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করছেন। গত বছর দিন-রাতের ম্যাচ-সহ ‘রয়্যাল প্রিমিয়ার লিগ’ শুরু করা হয়েছিল। এ বছর আরও বেশি দলকে যুক্ত করে প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

তবে রাতের ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। খেলোয়াড়, দর্শক এবং আয়োজকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে যে সংশয় ছিল, তা কাটিয়ে ওঠাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও অন্যান্য ব্যবস্থার পাশাপাশি মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস তৈরি করাও জরুরি ছিল বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তাই এই লিগ শুধুমাত্র একটি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা নয়। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যে খেলাধুলা নতুন সামাজিক যোগাযোগের জায়গা তৈরি করছে। ক্রিকেটের টানে মানুষ ঘরের বাইরে বেরোচ্ছেন, রাতে মাঠে যাচ্ছেন, একসঙ্গে ম্যাচ দেখছেন— এটাই তাঁদের কাছে বড় পরিবর্তন।

অবশ্য নিরাপত্তার উদ্বেগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনার পর উপত্যকায় নিরাপত্তা অভিযান এবং ধরপাকড়ও হয়েছে। ফলে পুলওয়ামার পুরনো ক্ষত এখনও সম্পূর্ণ শুকিয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

ফাইনালের রাতে তাই স্টেডিয়াম ঘিরে বড় সংখ্যায় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলেন। কিন্তু বিপুল জনসমাগমের মধ্যেও কোনও বড় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর মেলেনি।

মধ্যরাতে শ্রীনগরের ‘রয়্যাল গুডউইল’ দল ট্রফি জেতার পর স্টেডিয়াম জুড়ে ওঠে তুমুল হর্ষধ্বনি। ম্যাচে জয় পেল একটি দল, কিন্তু সেই রাতের সবচেয়ে বড় জয় যেন পুলওয়ামারই— যে শহর একসময় আতঙ্কে রাত কাটাত, সেখানে মানুষ এখন ক্রিকেটের আনন্দে রাত জাগছেন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *